রেলের লোকোমোটিভ সচল রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ট্রাকশন মোটর। আর এই গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ মেরামতের কাজ ঘিরেই বছরের পর বছর ধরে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার চক্রের আধিপত্যের অভিযোগ উঠেছে। উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলেও শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে শেষ পর্যন্ত কাজ চলে যায় একই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের হাতে—এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার।
দরপত্রের শর্ত পরিবর্তন, প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি দামে কার্যাদেশ, নিজস্ব মেরামত কারখানা না থাকা সত্ত্বেও কাজ পাওয়া এবং সরকারি কারখানা ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রাকশন মোটর মেরামত কার্যক্রম নিয়ে।
এদিকে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৮ মার্চ তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সর্বশেষ ৩৪টি ট্রাকশন মোটর মেরামতের প্রায় ৬ কোটি টাকার দরপত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে শত কোটি টাকার ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজ করে আসা ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস এখনও ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আড়ালে এ খাত নিয়ন্ত্রণ করছেন। রেলের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশের সহযোগিতায় তাঁর এই আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
রেলের একটি লোকোমোটিভের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশগুলোর একটি ট্রাকশন মোটর। বিদ্যুৎশক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর করে ট্রেনের চাকায় গতি সঞ্চার করে এই মোটর। ফলে ট্রেনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার মূল শক্তির অন্যতম উৎস এটি।
ভারী ট্রেন টানা, উঁচু পথে ওঠা এবং নির্দিষ্ট প্রযুক্তিতে ব্রেকিংয়ের সময় শক্তি পুনরুদ্ধারের মতো কাজেও ট্রাকশন মোটরের ভূমিকা রয়েছে। সাধারণত একটি লোকোমোটিভের বগির নিচে একাধিক ট্রাকশন মোটর স্থাপন করা হয়। কোনো মোটর বিকল হলে লোকোমোটিভের সক্ষমতা কমে যায়, কখনো পুরো ট্রেনও চলাচলের বাইরে চলে যেতে পারে।
তাই ট্রাকশন মোটরের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মান সরাসরি রেল চলাচলের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে যুক্ত।
রেল সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ২৩০০, ২৪০০, ৬০০০ ও ৬১০০ সিরিজের লোকোমোটিভের ৩৪টি ট্রাকশন মোটর মেরামতের জন্য প্রায় ৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ বেশি—৬ কোটি ৪৫ লাখ ৫২ হাজার ৬০৪ টাকায়—কার্যাদেশ পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স সৃজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ’।
দরপত্রের মূল্য প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে বেশি হলেও মূল্যায়ন উপকমিটি ও কারিগরি কমিটি সেটিকে ‘বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ উল্লেখ করে অনুমোদনের সুপারিশ করে।
তবে এই দরপত্রকে ঘিরে সময়সীমা ও যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ১৭ ডিসেম্বর। পরে সৃজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের আবেদনের পর সময় বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিজ্ঞতার শর্তেও পরিবর্তন আনা হয়।
প্রথমে সমজাতীয় কাজে অন্তত ৩০ লাখ টাকার অভিজ্ঞতার শর্ত থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করা হয়। রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অভিজ্ঞতার মূল্যসীমা নির্ধারণের ক্ষমতা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের রয়েছে।
অন্যদিকে সৃজা মেটাল দরপত্র মূল্যের ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অভিজ্ঞতার মানদণ্ড নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় গোপনীয় তথ্য হওয়ায় আবেদনকারীর এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, অভিজ্ঞতা, বার্ষিক টার্নওভার ও আর্থিক সক্ষমতার মতো শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে নতুন বা মাঝারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।
তাদের ভাষ্য, ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলেও যোগ্যতার শর্তের কারণে বাস্তবে প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে যাচ্ছে।
রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অভিযোগ, ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাস। তাদের দাবি, প্রায় ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই খাতের বড় একটি অংশের কাজ নিয়ন্ত্রণ করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বর্তমানে ‘মেসার্স সৃজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ’ ও ‘মেসার্স রোপিতা এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজ নেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটি আগে দীপ্তি রাণী দাশের নামে নিবন্ধিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠান দুটির নিয়ন্ত্রণ আফসার আলী বিশ্বাসের হাতে চলে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পরও ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ঠিকাদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ২১টি ট্রাকশন মোটর ও আর্মেচার মেরামতের কাজও এই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
রেলওয়ের দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজ পেতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মেরামত কারখানা থাকার কথা। কিন্তু আফসার আলী বিশ্বাসের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব কারখানা না থাকলেও তারা বছরের পর বছর কাজ পেয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকজন ঠিকাদার।
তাদের দাবি, আফসার আলী বিশ্বাসের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটিরই পূর্ণাঙ্গ নিজস্ব মেরামত কারখানা বা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নেই। অথচ রেলের নিজস্ব কারখানা ও অবকাঠামো ব্যবহার করেই এসব মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এমনকি রেলের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় সরকারি কারখানার যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। এর বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন তালিকাভুক্ত ঠিকাদার বলেন, তাঁরা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব কারখানা স্থাপন, আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা ও দক্ষ জনবল তৈরিতে বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু সেই অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও তারা কাজ পাচ্ছেন না। বিপরীতে নিজস্ব কারখানা নেই—এমন প্রতিষ্ঠানই ধারাবাহিকভাবে বড় কার্যাদেশ পাচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
ট্রাকশন মোটর মেরামতের মান নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে মেরামতের কয়েক মাসের মধ্যেই মোটর আবার বিকল হয়ে পড়ে। ফলে একই মোটর পুনরায় মেরামতের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করতে হয়।
রেল পরিবহন ও প্রকৌশল বিভাগের তথ্যের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী ট্রেনের ট্রাকশন মোটর মাঝপথে বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঢাকায় পৌঁছানোর পর ফিরতি যাত্রার আগেই মোটর অচল হয়ে পড়েছে। তখন বিকল্প ইঞ্জিন বা মোটর ব্যবহার করে ট্রেন পরিচালনা করতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও নিম্নমানের মেরামতের কারণে রেল কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে এক বছরের ওয়ারেন্টি থাকার কথা থাকলেও অনেক মোটর তার আগেই বিকল হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মেরামত করা মোটরের ত্রুটি, ওয়ারেন্টি দাবি এবং পুনরায় মেরামতের সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ৮ মার্চ তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের উপপরিচালক (মানিলন্ডারিং) জাহাঙ্গীর আলম চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠান। চিঠিতে ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল, ২০১৭ সালের ৭ মার্চ ও ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ সালের ৫ এপ্রিল এবং ২০১৯ সালের ৩০ জুন সম্পাদিত ট্রাকশন মোটর মেরামতসংক্রান্ত চুক্তির সব নথির সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে একই গোষ্ঠীর হাতে ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজ কেন্দ্রীভূত থাকার অভিযোগের কারণে দরপত্র থেকে শুরু করে কাজের মান, অর্থ পরিশোধ এবং সরকারি সম্পদ ব্যবহারের পুরো প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ঠিকাদার আফসার আলী বিশ্বাসকে সুবিধা দেওয়া এবং তাঁর সঙ্গে রেলের কর্মকর্তাদের ব্যবসায়িক যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন।
গত ২৮ জুলাই রেল ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ই-জিপি পদ্ধতিতে যোগ্যতাসম্পন্ন ঠিকাদাররাই দরপত্রে অংশ নেন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করেই কাজ পান। কোনো প্রতিষ্ঠান কাজ পেলে সেখানে তাঁর কিছু করার নেই।
রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আরএস) ফকির মো. মহিউদ্দিনও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, টেন্ডারের সব শর্ত পূরণ করেই কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজে নতুন করে ‘নূরে এলাহী এন্টারপ্রাইজ’ ও ‘কামাল এন্টারপ্রাইজ’ নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রামের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক বেলাল হোসেন সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ট্রেনে থাকার কথা জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রেলের তালিকাভুক্ত কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, ই-জিপি চালুর পর অভিজ্ঞতা, বার্ষিক টার্নওভার ও আর্থিক সক্ষমতার মতো শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যে নতুন বা মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে বড় দরপত্রে প্রতিযোগিতা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, বড় কাজের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে না পারায় অনেক প্রতিষ্ঠান পুরোনো ঠিকাদারদের লাইসেন্স বা অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একই গোষ্ঠী কাজ পাওয়ায় তাদের অভিজ্ঞতার পরিমাণও বাড়ছে। ফলে পরবর্তী দরপত্রগুলোতেও তারা স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।
একজন ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা নিজস্ব কারখানা স্থাপন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু সেই অবকাঠামোর মূল্যায়ন না হয়ে এমন প্রতিষ্ঠানই কাজ পাচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে নিজস্ব কারখানা না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ৩৪টি ট্রাকশন মোটর মেরামতের কাজও সৃজা মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ পেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের নাম ভিন্ন হলেও নেপথ্যে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে।
তাদের ভাষ্য, দরপত্রের শর্ত, অভিজ্ঞতার মানদণ্ড এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছে যে প্রতিযোগিতার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে।
এদিকে ট্রাকশন মোটর ও আর্মেচার মেরামতের আরও কয়েকটি নতুন দরপত্রের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব কার্যাদেশও একই গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার।
তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দরপত্রের পূর্ণ নথি, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, অভিজ্ঞতার সনদ, কারখানার সক্ষমতা, কাজের মান, অর্থ পরিশোধ এবং সরকারি অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়গুলো যাচাই করা জরুরি।
ট্রাকশন মোটর মেরামত কার্যক্রম ঘিরে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে কার্যাদেশ প্রদান, মেরামতের মান এবং সরকারি সম্পদের ব্যবহারে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।





















