খুলনা নগরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-১) চালুর পর থেকেই নানা সমস্যার মুখে পড়েছে। পরিশোধনের পরও পানিতে লবণাক্ততা, শুষ্ক মৌসুমে সরবরাহ সংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সিস্টেম লসের কারণে প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
খুলনা ওয়াসা সূত্র জানায়, ২০১১ সালে নেওয়া এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাগেরহাটের মধুমতি নদী থেকে পানি এনে শোধনের মাধ্যমে নগরবাসীকে সরবরাহ করা। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে প্রকল্পটি ২০১৯ সালে চালু হয়। প্রতিদিন ১১ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা অর্জিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সমিশন পাইপলাইনের একটি অংশ কাটাখালী খালে ভেসে উঠেছে। এছাড়া চারটি ইনটেক পাম্পের একটি দীর্ঘদিন ধরে অচল এবং পানি শোধনাগারের ছয়টি সাবমার্সিবল পাম্পের মধ্যে তিনটি নষ্ট থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদিত হলেও এর প্রায় ২০ শতাংশ বা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর আগেই সিস্টেম লস হিসেবে হারিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে পানি সংকট বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত পানির বিপরীতে রাজস্বও আদায় করা যাচ্ছে না।
লবণচরা এলাকার বাসিন্দা মনোর হোসেন অভিযোগ করেন, বছরের অধিকাংশ সময়ই ওয়াসার পানি পাওয়া যায় না। অন্যদিকে ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ না হলে যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক।
প্রকল্পটির ঋণদাতা জাইকা ও এডিবির ঋণ ৩০ বছরে পরিশোধের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবছর প্রায় ৩০ কোটি টাকা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রকল্প থেকে বর্তমান আয় মাত্র প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যার বড় অংশ পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হচ্ছে।
সুজন খুলনার সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা অভিযোগ করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের কারণে এটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তবে খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফিরোজ শাহ বলেন, প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















