জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আজ (বৃহস্পতিবার) সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ মামলার প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল ২২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য এদিন নির্ধারণ করেন।
মামলায় বর্তমানে পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন—চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু।
অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ, সুমন দে-সহ অন্যান্যরা।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল তিনটি অভিযোগে ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরও দুই দিন আগে, ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।




















