০৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৫ বছরের চাকরিতে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ: পিআইও মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৯

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র ১৫ বছরের চাকরি জীবনে বৈধ আয়ের তুলনায় ঢাকা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে নিজের ও স্ত্রীর নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ৭ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের বোদাগঞ্জ উপজেলায় অ্যাডহক ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন মনিরুজ্জামান সরকার। ছয় মাস পর স্থায়ী নিয়োগ পেয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বদলি হন। এরপর বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, বদলি বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় আসেন বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর মিরপুরে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট, রংপুর নগরীতে একাধিক বাড়ি ও প্লট, কুড়িগ্রামে জমি, আবাসিক ভবন, ফার্মেসি, ছয়টি মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়ি এবং তেলের পাম্প ব্যবসায় বিনিয়োগসহ বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। এছাড়া স্ত্রী আরফাতুন নাহারের নামেও একাধিক সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলন এবং জনপ্রতিনিধিদের অজ্ঞাতসারে প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়ার মতো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ঈদগাহ ও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প, বিশেষ করে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নামমাত্র ঋণ নেওয়া হয়েছে এবং নিজের ও স্ত্রীর নামে এনআরবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে একাধিক হিসাব পরিচালনা করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, “আমার সম্পদসহ সকল বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমি অবগত করেছি। এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলতে চাই না।”

এদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ যদি তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়, তাহলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদন্ত করা উচিত। তদন্তে অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তাকে সম্পদের উৎস সম্পর্কে আইন অনুযায়ী জবাবদিহি করতে হবে।

এ বিষয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সর্বাধিক পঠিত

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চৌগাছা কাঁচাবাজারের দোকান উচ্ছেদের অভিযোগ

১৫ বছরের চাকরিতে শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ: পিআইও মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে

আপডেট: ১১:০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান সরকারের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র ১৫ বছরের চাকরি জীবনে বৈধ আয়ের তুলনায় ঢাকা, রংপুর ও কুড়িগ্রামে নিজের ও স্ত্রীর নামে একাধিক বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন এবং বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১১ সালের ৭ জুলাই ঠাকুরগাঁওয়ের বোদাগঞ্জ উপজেলায় অ্যাডহক ভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন মনিরুজ্জামান সরকার। ছয় মাস পর স্থায়ী নিয়োগ পেয়ে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় বদলি হন। এরপর বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, বদলি বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিকবার আলোচনায় আসেন বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর মিরপুরে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট, রংপুর নগরীতে একাধিক বাড়ি ও প্লট, কুড়িগ্রামে জমি, আবাসিক ভবন, ফার্মেসি, ছয়টি মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত বিলাসবহুল গাড়ি এবং তেলের পাম্প ব্যবসায় বিনিয়োগসহ বিপুল সম্পদের মালিক তিনি। এছাড়া স্ত্রী আরফাতুন নাহারের নামেও একাধিক সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই বিল উত্তোলন এবং জনপ্রতিনিধিদের অজ্ঞাতসারে প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়ার মতো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ঈদগাহ ও সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প, বিশেষ করে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নামমাত্র ঋণ নেওয়া হয়েছে এবং নিজের ও স্ত্রীর নামে এনআরবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে একাধিক হিসাব পরিচালনা করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, “আমার সম্পদসহ সকল বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমি অবগত করেছি। এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলতে চাই না।”

এদিকে, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার সম্পদ যদি তাঁর বৈধ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়, তাহলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদন্ত করা উচিত। তদন্তে অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তাকে সম্পদের উৎস সম্পর্কে আইন অনুযায়ী জবাবদিহি করতে হবে।

এ বিষয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।