০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বসুন্দিয়া ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৩২

যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ, দালাল চক্রের মাধ্যমে সেবা প্রদান এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্ধারিত অঙ্কের টাকা না দিলে নামজারি, জমা খারিজসহ বিভিন্ন ভূমিসংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয় বা নিখোঁজ হয়ে যায়। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে একদল দালালের মাধ্যমে ঘুষের জন্য চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দালালদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ফাইল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো হয় এবং ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন হলে দ্রুত কাজ করে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বসুন্দিয়া মডেল দাখিল মাদ্রাসার ৭৫ শতাংশ জমির নামজারি সংক্রান্ত কাজে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। যদিও ওই জমির একটি বড় অংশ পূর্বেই বিক্রি ও হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি সক্রিয় দালাল চক্র পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভূমি অফিসে বিভিন্ন ধরনের নামজারি, খাজনা দাখিলা, সরকারি জমির লিজসহ নানা কাজে দালালদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, অফিসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই কর্মচারীর সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে। এসব বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশ। তিনি বলেন, “আমি কোনো ঘুষ গ্রহণ করি না। অনেক সময় মানুষ স্বেচ্ছায় উপহার দেয়। অফিসে ঘুষের কোনো লেনদেন হয় না। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।” ব্যক্তিগত সম্পর্ক সংক্রান্ত অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, ভুক্তভোগীদের একটি অংশ জানিয়েছেন, তারা অভিযোগগুলো নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয়রা নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন দুই বাংলাদেশি নারী

বসুন্দিয়া ভূমি অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আপডেট: ১১:০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ, দালাল চক্রের মাধ্যমে সেবা প্রদান এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্ধারিত অঙ্কের টাকা না দিলে নামজারি, জমা খারিজসহ বিভিন্ন ভূমিসংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয় বা নিখোঁজ হয়ে যায়। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসুন্দিয়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে একদল দালালের মাধ্যমে ঘুষের জন্য চাপ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দালালদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ফাইল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো হয় এবং ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন হলে দ্রুত কাজ করে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বসুন্দিয়া মডেল দাখিল মাদ্রাসার ৭৫ শতাংশ জমির নামজারি সংক্রান্ত কাজে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। যদিও ওই জমির একটি বড় অংশ পূর্বেই বিক্রি ও হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়া অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি সক্রিয় দালাল চক্র পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ভূমি অফিসে বিভিন্ন ধরনের নামজারি, খাজনা দাখিলা, সরকারি জমির লিজসহ নানা কাজে দালালদের মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, অফিসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ওই কর্মচারীর সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম করা হয়েছে। এসব বিষয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশ। তিনি বলেন, “আমি কোনো ঘুষ গ্রহণ করি না। অনেক সময় মানুষ স্বেচ্ছায় উপহার দেয়। অফিসে ঘুষের কোনো লেনদেন হয় না। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।” ব্যক্তিগত সম্পর্ক সংক্রান্ত অভিযোগও তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, ভুক্তভোগীদের একটি অংশ জানিয়েছেন, তারা অভিযোগগুলো নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশাপাশি স্থানীয়রা নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।