০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

১৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পে ২২ উটপাখি, ১৫টিই জবাই—বাকি ৪টিরও হদিস মেলে না

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৯:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১১

দেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাই এবং গরু-খাসির বিকল্প মাংসের উৎস খুঁজতে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার গবেষণা প্রকল্পে আফ্রিকা থেকে আনা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টিই জবাই করা হয়েছে। মারা গেছে আরও তিনটি। বর্তমানে প্রকল্পে উটপাখি থাকার কথা চারটি। তবে সংরক্ষিত শেডে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সময় দুইটির বেশি উটপাখি দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্য, অগ্রগতি ও প্রাণী জবাইয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) ২০১৯-২০ অর্থবছরে ‘পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্প’ গ্রহণ করে। এর লক্ষ্য ছিল দেশীয় পোলট্রি প্রজাতির উন্নয়ন, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং খামারিদের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল গরু ও খাসির বিকল্প হিসেবে নতুন মাংসের উৎস খুঁজে বের করা। এর অংশ হিসেবে আফ্রিকা থেকে উটপাখি এনে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় তাদের অভিযোজন পরীক্ষা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় দুই দফায় আফ্রিকা থেকে ২২টি উটপাখি আনা হয়। এর মধ্যে ২০২০ সালে প্রথম দফায় সাতটি উটপাখি আনা হয়। পরে অধিকতর গবেষণার জন্য আরও ১৫টি অপ্রাপ্তবয়স্ক উটপাখি দেশে আনা হয়।

গবেষণা প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজেদুল করিম সরকার। প্রকল্পের শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আফ্রিকা থেকে আনা উটপাখি সহজেই পালন করা সম্ভব। একটি প্রাপ্তবয়স্ক উটপাখির ওজন ১০০ থেকে ১৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। প্রায় আড়াই বছর বয়সে ডিম দেওয়া শুরু করে এবং বছরে ২০ থেকে ২৫টি ডিম দেয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, একটি উটপাখি অন্তত দুটি দেশীয় গরুর সমপরিমাণ মাংসের চাহিদা পূরণে সক্ষম হতে পারে। ভবিষ্যতে উটপাখির মাংস বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার কথাও বলা হয়েছিল।

তবে ছয় বছর পর প্রকল্পের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিএলআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি জবাই করা হয়েছে মাংসের গুণগত মান ও স্বাদ পরীক্ষার জন্য। আরও তিনটি মারা গেছে।

প্রশ্ন উঠেছে, যে গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি নতুন প্রাণীকে বাংলাদেশের পরিবেশে অভিযোজিত করা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক খামার গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করা, সেখানে অধিকাংশ প্রাণী গবেষণার মাঝপথেই জবাই করা হলে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ভিত্তি কতটা শক্তিশালী থাকে। প্রাণী জবাইয়ের সিদ্ধান্ত গবেষণার প্রয়োজনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী গবেষক ড. কামরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উটপাখি পালন ও নতুন জাত উদ্ভাবনের চিন্তা সুদূরপ্রসারী। তবে উটপাখি বাংলাদেশের স্থানীয় প্রাণী নয়। ফলে এদের প্রজনন, ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন এবং বাণিজ্যিকভাবে মাংসের চাহিদা পূরণে সময় ও বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গবেষণার প্রয়োজনে প্রাণী জবাইয়ের প্রয়োজন থাকতেই পারে। তবে ২২টির মধ্যে ১৫টি উটপাখি জবাই করার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক ছিল, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে ড. সাজেদুল করিম সরকারের অধীনে উটপাখি নিয়ে পিএইচডি করেছেন হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গবেষণায় সব ক্ষেত্রে সফলতা আসবে—এমন নয়; ব্যর্থতাও গবেষণার অংশ। উটপাখি বাংলাদেশের আবহাওয়ার স্থানীয় প্রাণী না হওয়ায় সফল হতে একাধিক ধাপে কাজ করতে হবে।

১৫টি উটপাখি জবাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, মাংসের স্বাদ পরীক্ষার জন্য গবেষণার প্রয়োজনেই তা করা হয়েছে। তবে বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য প্রকল্প পরিচালক সাজেদুল করিম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার সাজেদুল করিমের অফিসে যাওয়া হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক (সাময়িক দায়িত্ব) ড. শাকিলা ফারুক উটপাখিগুলো জবাইয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উটপাখিকে দেশে এনে সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে তাদের খাবার, উপযোগী পরিবেশ এবং মাংসের স্বাদ সম্পর্কে পরীক্ষা করা হয়েছে। এজন্য কিছু উটপাখি জবাই করা হয়েছে। বাংলাদেশে উটপাখি স্থানীয় প্রাণী নয় বলে গবেষণার সুফল পেতে আরও সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুধু উটপাখি নয়, ২০২৩ সালে গবেষণাধীন ৩৮টি মোরগও জবাই করে খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। তখন এসব মোরগ চুরি হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, বিএলআরআইয়ে যেসব অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। উটপাখির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার গবেষণা প্রকল্পে আনা উটপাখিগুলোর বর্তমান অবস্থা, ১৫টি জবাইয়ের যৌক্তিকতা এবং গবেষণার প্রকৃত অগ্রগতি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে।

 

সর্বাধিক পঠিত

যশোর হাসপাতালে ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি করে পালানোর সময় হাতেনাতে আটক

১৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পে ২২ উটপাখি, ১৫টিই জবাই—বাকি ৪টিরও হদিস মেলে না

আপডেট: ১০:৫৯:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

দেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাই এবং গরু-খাসির বিকল্প মাংসের উৎস খুঁজতে প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার গবেষণা প্রকল্পে আফ্রিকা থেকে আনা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টিই জবাই করা হয়েছে। মারা গেছে আরও তিনটি। বর্তমানে প্রকল্পে উটপাখি থাকার কথা চারটি। তবে সংরক্ষিত শেডে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের সময় দুইটির বেশি উটপাখি দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্য, অগ্রগতি ও প্রাণী জবাইয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) ২০১৯-২০ অর্থবছরে ‘পোলট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্প’ গ্রহণ করে। এর লক্ষ্য ছিল দেশীয় পোলট্রি প্রজাতির উন্নয়ন, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং খামারিদের মধ্যে প্রযুক্তি হস্তান্তর। প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল গরু ও খাসির বিকল্প হিসেবে নতুন মাংসের উৎস খুঁজে বের করা। এর অংশ হিসেবে আফ্রিকা থেকে উটপাখি এনে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় তাদের অভিযোজন পরীক্ষা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় দুই দফায় আফ্রিকা থেকে ২২টি উটপাখি আনা হয়। এর মধ্যে ২০২০ সালে প্রথম দফায় সাতটি উটপাখি আনা হয়। পরে অধিকতর গবেষণার জন্য আরও ১৫টি অপ্রাপ্তবয়স্ক উটপাখি দেশে আনা হয়।

গবেষণা প্রকল্পটির পরিচালক ছিলেন বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সাজেদুল করিম সরকার। প্রকল্পের শুরুতে তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আফ্রিকা থেকে আনা উটপাখি সহজেই পালন করা সম্ভব। একটি প্রাপ্তবয়স্ক উটপাখির ওজন ১০০ থেকে ১৫০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। প্রায় আড়াই বছর বয়সে ডিম দেওয়া শুরু করে এবং বছরে ২০ থেকে ২৫টি ডিম দেয়। তাঁর বক্তব্য ছিল, একটি উটপাখি অন্তত দুটি দেশীয় গরুর সমপরিমাণ মাংসের চাহিদা পূরণে সক্ষম হতে পারে। ভবিষ্যতে উটপাখির মাংস বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করার কথাও বলা হয়েছিল।

তবে ছয় বছর পর প্রকল্পের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিএলআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি জবাই করা হয়েছে মাংসের গুণগত মান ও স্বাদ পরীক্ষার জন্য। আরও তিনটি মারা গেছে।

প্রশ্ন উঠেছে, যে গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি নতুন প্রাণীকে বাংলাদেশের পরিবেশে অভিযোজিত করা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক খামার গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করা, সেখানে অধিকাংশ প্রাণী গবেষণার মাঝপথেই জবাই করা হলে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার ভিত্তি কতটা শক্তিশালী থাকে। প্রাণী জবাইয়ের সিদ্ধান্ত গবেষণার প্রয়োজনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও বন্যপ্রাণী গবেষক ড. কামরুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় উটপাখি পালন ও নতুন জাত উদ্ভাবনের চিন্তা সুদূরপ্রসারী। তবে উটপাখি বাংলাদেশের স্থানীয় প্রাণী নয়। ফলে এদের প্রজনন, ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদন এবং বাণিজ্যিকভাবে মাংসের চাহিদা পূরণে সময় ও বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, গবেষণার প্রয়োজনে প্রাণী জবাইয়ের প্রয়োজন থাকতেই পারে। তবে ২২টির মধ্যে ১৫টি উটপাখি জবাই করার সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক ছিল, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে ড. সাজেদুল করিম সরকারের অধীনে উটপাখি নিয়ে পিএইচডি করেছেন হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী খন্দকার তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গবেষণায় সব ক্ষেত্রে সফলতা আসবে—এমন নয়; ব্যর্থতাও গবেষণার অংশ। উটপাখি বাংলাদেশের আবহাওয়ার স্থানীয় প্রাণী না হওয়ায় সফল হতে একাধিক ধাপে কাজ করতে হবে।

১৫টি উটপাখি জবাইয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, মাংসের স্বাদ পরীক্ষার জন্য গবেষণার প্রয়োজনেই তা করা হয়েছে। তবে বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যার জন্য প্রকল্প পরিচালক সাজেদুল করিম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে একাধিকবার সাজেদুল করিমের অফিসে যাওয়া হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক (সাময়িক দায়িত্ব) ড. শাকিলা ফারুক উটপাখিগুলো জবাইয়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, উটপাখিকে দেশে এনে সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে তাদের খাবার, উপযোগী পরিবেশ এবং মাংসের স্বাদ সম্পর্কে পরীক্ষা করা হয়েছে। এজন্য কিছু উটপাখি জবাই করা হয়েছে। বাংলাদেশে উটপাখি স্থানীয় প্রাণী নয় বলে গবেষণার সুফল পেতে আরও সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুধু উটপাখি নয়, ২০২৩ সালে গবেষণাধীন ৩৮টি মোরগও জবাই করে খেয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। তখন এসব মোরগ চুরি হয়ে গেছে বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হলেও সেই তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ ও অনিয়মের বিষয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, বিএলআরআইয়ে যেসব অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে, সেসব বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। উটপাখির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রায় ১৩৪ কোটি টাকার গবেষণা প্রকল্পে আনা উটপাখিগুলোর বর্তমান অবস্থা, ১৫টি জবাইয়ের যৌক্তিকতা এবং গবেষণার প্রকৃত অগ্রগতি নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে।