০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে খুবির শিক্ষক রেজাউল ইসলাম স্থায়ীভাবে অব্যাহতি,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:২২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৯

যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. মো. রুবেল আনসারের বিষয়ে নতুন করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান।

তিনি জানান, যৌন নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রের দেওয়া আগের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।

অন্যদিকে, ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে আগের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই করতে নতুন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ

এর আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে আটক করেন নারী শিক্ষার্থীরা। গত ২২ জুলাই রাতে এ ঘটনা ঘটার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

ঘটনার তিন দিন পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ অন্যান্য গেটের তালা খুলে দেন। তবে তাঁরা তিন দফা দাবি ঘোষণা করে জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ক্লাসে ফিরবেন না।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম ও ড. মো. রুবেল আনসারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিও জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি এবং রুবেল আনসারের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের দাবির বাস্তবায়নে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বাধিক পঠিত

যশোর হাসপাতালে ভ্যানিটি ব্যাগ চুরি করে পালানোর সময় হাতেনাতে আটক

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে খুবির শিক্ষক রেজাউল ইসলাম স্থায়ীভাবে অব্যাহতি,

আপডেট: ০৫:২২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. মো. রুবেল আনসারের বিষয়ে নতুন করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান।

তিনি জানান, যৌন নিপীড়ন নিরোধকেন্দ্রের দেওয়া আগের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।

অন্যদিকে, ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে আগের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই করতে নতুন একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগ

এর আগে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে আটক করেন নারী শিক্ষার্থীরা। গত ২২ জুলাই রাতে এ ঘটনা ঘটার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন ঘোষণা করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

ঘটনার তিন দিন পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ অন্যান্য গেটের তালা খুলে দেন। তবে তাঁরা তিন দফা দাবি ঘোষণা করে জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ক্লাসে ফিরবেন না।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে অন্যতম ছিল নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম ও ড. মো. রুবেল আনসারকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিও জানানো হয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে প্রশাসনিক কার্যক্রম চললেও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি এবং রুবেল আনসারের বিষয়ে নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের দাবির বাস্তবায়নে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।