০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

যশোরে বিএনপি নেতা হাসান আলীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৪

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রাজাপুর জামতলা এলাকায় বিএনপি নেতা হাসান আলীকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের ঈগল তেল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হাসান আলী ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক।

ঘটনার পরপরই ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা যশোর-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে ইউনুস নামে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়।

বিএনপি নেতা হাসান আলী অভিযোগ করেন, তার বাবা ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি খলিলুর রহমান হত্যা মামলার রায় ঘোষণার প্রাক্কালে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি একই স্থানে খলিলুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল।

হাসান আলীর দাবি, স্থানীয় আশিক ধারালো রামদা নিয়ে প্রকাশ্যে তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় শিহাব নামে আরও একজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসায় অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আশিক তার বাবা হত্যা মামলার আসামি বাছেরের ভাতিজা এবং ইউনুস বাছেরের ভাই। পরিকল্পিতভাবে টাকার বিনিময়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এতে ইউনুসেরও ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া আশিক অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে এবং ইউনুস আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন হাসান আলী। বর্তমানে তারা বিএনপির পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও তার দাবি।

ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জীবন কুমার বলেন, রাতে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পক্ষ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ করেছে। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ কোনো অস্ত্র বা এ ধরনের আলামত উদ্ধার করতে পারেনি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউনুসকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সূত্রটির দাবি, স্থানীয় বিএনপির আরেকটি পক্ষের ইন্ধনেও ঘটনাটি বড় আকার ধারণ করেছে এবং তারা আশিকের পক্ষ সমর্থন করছে।

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি, ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

যশোরে বিএনপি নেতা হাসান আলীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

আপডেট: ১০:২৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রাজাপুর জামতলা এলাকায় বিএনপি নেতা হাসান আলীকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের ঈগল তেল পাম্পসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হাসান আলী ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক।

ঘটনার পরপরই ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা যশোর-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে ইউনুস নামে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়।

বিএনপি নেতা হাসান আলী অভিযোগ করেন, তার বাবা ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি খলিলুর রহমান হত্যা মামলার রায় ঘোষণার প্রাক্কালে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি একই স্থানে খলিলুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল।

হাসান আলীর দাবি, স্থানীয় আশিক ধারালো রামদা নিয়ে প্রকাশ্যে তার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় শিহাব নামে আরও একজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসায় অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আশিক তার বাবা হত্যা মামলার আসামি বাছেরের ভাতিজা এবং ইউনুস বাছেরের ভাই। পরিকল্পিতভাবে টাকার বিনিময়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এতে ইউনুসেরও ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া আশিক অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে এবং ইউনুস আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন হাসান আলী। বর্তমানে তারা বিএনপির পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও তার দাবি।

ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জীবন কুমার বলেন, রাতে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পক্ষ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ করেছে। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ কোনো অস্ত্র বা এ ধরনের আলামত উদ্ধার করতে পারেনি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউনুসকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সূত্রটির দাবি, স্থানীয় বিএনপির আরেকটি পক্ষের ইন্ধনেও ঘটনাটি বড় আকার ধারণ করেছে এবং তারা আশিকের পক্ষ সমর্থন করছে।