০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৪

ঢাকার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল জালিয়াতি, ঘুষ বাণিজ্য, রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া দাতা দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন এবং সরকারি সেবায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী, দলিল লেখক ও স্থানীয় বাসিন্দা।

অভিযোগ অনুযায়ী, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ বা ‘টেবিল মানি’ না দিলে অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয় না। এছাড়া অফিসের নকল নবিস মো. ফারুক ও মেহেদী হাসান রুমেলের মাধ্যমে কাজ না করলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ঘুষ ছাড়া ওই অফিসে কোনো কাজ হয় না। ফলে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই অফিসে আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক জানান, দলিল লেখকদের কাছ থেকেও নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। সরকারি ওমেদারদের বাদ দিয়ে কমিশনভিত্তিক দলিল নিবন্ধন করা হয় এবং কমিশন দলিলের ক্ষেত্রে দাতার বাড়িতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলিল নিবন্ধন বিলম্বিত বা বাতিল করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভুয়া দাতার টিপসই ব্যবহার করে কমিশন দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত দলিলের তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকৃত মালিককে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও উঠেছে নকল নবিস মেহেদী হাসান রুমেলের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভুয়া দাতা দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি এবং পে-অর্ডার জালিয়াতির মাধ্যমেও বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আড়াকুল মৌজার একটি জমির ২০২৫ সালের ১২ মার্চ নিবন্ধিত বায়নানামা দলিলের মূল্য পরবর্তীতে কমিয়ে দেখানো হয়। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি পরবর্তী সাফ কবলা দলিলে মূল বায়না গ্রহীতার পরিবর্তে তার ছেলের নামে দলিল নিবন্ধন করা হয়। এ ঘটনায় এক লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।

আরেকটি ঘটনায় বেয়ারা মৌজার একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভুয়া নামজারি ও খাজনার কাগজ ব্যবহার করে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অফিস খরচের নামে আরও এক লাখ টাকা নেওয়ার দাবিও করেছেন অভিযোগকারীরা।

এছাড়া এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বাঘৈর মৌজার একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল গ্রহীতাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই বাতিল করা হয়। এ জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা এবং অফিস খরচের নামে আরও দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার দাবি, দলিল বাতিলের আগেই সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির জন্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা হাতবায়না দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। তার স্ত্রীর নামে মিরপুরে একটি বাড়ি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে তিনি মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও সদরপুর, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, ঢাকা উত্তরার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং ময়মনসিংহের ত্রিশালে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণে বদলি হয়ে এসে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মের সুযোগ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

 

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে হত্যার হুমকি, ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের দাবি

আপডেট: ১০:০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ঢাকার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল জালিয়াতি, ঘুষ বাণিজ্য, রাজস্ব ফাঁকি, ভুয়া দাতা দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন এবং সরকারি সেবায় অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী, দলিল লেখক ও স্থানীয় বাসিন্দা।

অভিযোগ অনুযায়ী, জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ বা ‘টেবিল মানি’ না দিলে অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয় না। এছাড়া অফিসের নকল নবিস মো. ফারুক ও মেহেদী হাসান রুমেলের মাধ্যমে কাজ না করলে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সেবা নিতে আসা একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ঘুষ ছাড়া ওই অফিসে কোনো কাজ হয় না। ফলে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েই অফিসে আসেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক জানান, দলিল লেখকদের কাছ থেকেও নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। সরকারি ওমেদারদের বাদ দিয়ে কমিশনভিত্তিক দলিল নিবন্ধন করা হয় এবং কমিশন দলিলের ক্ষেত্রে দাতার বাড়িতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দলিল নিবন্ধন বিলম্বিত বা বাতিল করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগসাজশে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ভুয়া দাতার টিপসই ব্যবহার করে কমিশন দলিল নিবন্ধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত দলিলের তথ্য পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকৃত মালিককে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগও উঠেছে নকল নবিস মেহেদী হাসান রুমেলের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভুয়া দাতা দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি এবং পে-অর্ডার জালিয়াতির মাধ্যমেও বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।

একটি নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করে অভিযোগে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আড়াকুল মৌজার একটি জমির ২০২৫ সালের ১২ মার্চ নিবন্ধিত বায়নানামা দলিলের মূল্য পরবর্তীতে কমিয়ে দেখানো হয়। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি পরবর্তী সাফ কবলা দলিলে মূল বায়না গ্রহীতার পরিবর্তে তার ছেলের নামে দলিল নিবন্ধন করা হয়। এ ঘটনায় এক লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।

আরেকটি ঘটনায় বেয়ারা মৌজার একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ভুয়া নামজারি ও খাজনার কাগজ ব্যবহার করে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অফিস খরচের নামে আরও এক লাখ টাকা নেওয়ার দাবিও করেছেন অভিযোগকারীরা।

এছাড়া এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, বাঘৈর মৌজার একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল গ্রহীতাকে কোনো নোটিশ না দিয়েই বাতিল করা হয়। এ জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা এবং অফিস খরচের নামে আরও দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার দাবি, দলিল বাতিলের আগেই সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির জন্য এক কোটি ২০ লাখ টাকা হাতবায়না দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। তার স্ত্রীর নামে মিরপুরে একটি বাড়ি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে তিনি মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন ও সদরপুর, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, ঢাকা উত্তরার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং ময়মনসিংহের ত্রিশালে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কেরানীগঞ্জ দক্ষিণে বদলি হয়ে এসে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনিয়মের সুযোগ নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইমরুল খোরশেদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।