০৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে আ. লীগ ক্যাডার আলালের দৌড়ঝাঁপ, দলীয় লোকজনের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৫০৯

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গোপন বৈঠক ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আলোচিত আওয়ামী লীগ ক্যাডার আলাল উদ্দিন ও আবুল কালামকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৭ জুন দেশের বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নিজেদের রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে তারা দলীয় সমর্থকদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন।

অভিযুক্ত আলাল উদ্দিন ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং আবুল কালাম একই গ্রামের মৃত আব্দুল মুজিদের ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ ক্যাডার আলাল উদ্দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে একটি ‘গণস্বাক্ষর নাটক’ সাজিয়েছেন, যা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে আড়াল করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র। তারা আলাল উদ্দিন ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানা পুলিশকে অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের পর আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় আলাল উদ্দিন নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতাকে প্রভাবিত করে আওয়ামী লীগ সমর্থক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা কাগজে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন, যা ভবিষ্যতে নিজের পক্ষে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলাল উদ্দিন ও আবুল কালাম অস্ত্রধারী ক্যাডারদের নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন, হামলা-মামলা, চুরি-ডাকাতি, সালিশের নামে চাঁদাবাজি এবং জমি দখলসহ নানা অপকর্ম করেছেন। ৫ আগস্টের পর তারা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে নতুন সরকার গঠনের পর বিএনপির কিছু নেতার সহযোগিতায় এলাকায় ফিরে আসেন।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন সন্ধ্যার পর আলাল উদ্দিনের বাড়িতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় এবং গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বৈঠক চলতে দেখা গেছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর এখন তিনি নিজেকে রক্ষার জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও আলাল উদ্দিন ও আবুল কালাম বারবার আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সর্বাধিক পঠিত

সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে আ. লীগ ক্যাডার আলালের দৌড়ঝাঁপ, দলীয় লোকজনের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগ

সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে আ. লীগ ক্যাডার আলালের দৌড়ঝাঁপ, দলীয় লোকজনের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের অভিযোগ

আপডেট: ০৩:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে গোপন বৈঠক ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আলোচিত আওয়ামী লীগ ক্যাডার আলাল উদ্দিন ও আবুল কালামকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১৭ জুন দেশের বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নিজেদের রক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে তারা দলীয় সমর্থকদের কাছ থেকে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করছেন।

অভিযুক্ত আলাল উদ্দিন ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং আবুল কালাম একই গ্রামের মৃত আব্দুল মুজিদের ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর আওয়ামী লীগ ক্যাডার আলাল উদ্দিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে একটি ‘গণস্বাক্ষর নাটক’ সাজিয়েছেন, যা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে আড়াল করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র। তারা আলাল উদ্দিন ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানা পুলিশকে অবহিত করা হলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংবাদ প্রকাশের পর আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কায় আলাল উদ্দিন নতুন কৌশল গ্রহণ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতাকে প্রভাবিত করে আওয়ামী লীগ সমর্থক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা কাগজে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন, যা ভবিষ্যতে নিজের পক্ষে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলাল উদ্দিন ও আবুল কালাম অস্ত্রধারী ক্যাডারদের নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়েছেন, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন, হামলা-মামলা, চুরি-ডাকাতি, সালিশের নামে চাঁদাবাজি এবং জমি দখলসহ নানা অপকর্ম করেছেন। ৫ আগস্টের পর তারা দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরে নতুন সরকার গঠনের পর বিএনপির কিছু নেতার সহযোগিতায় এলাকায় ফিরে আসেন।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন সন্ধ্যার পর আলাল উদ্দিনের বাড়িতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় এবং গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বৈঠক চলতে দেখা গেছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর এখন তিনি নিজেকে রক্ষার জন্য গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও আলাল উদ্দিন ও আবুল কালাম বারবার আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীরব ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”