১০:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ফাঁকি: ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেট’ নিয়ে তোলপাড়, তদন্তের দাবি জোরালো

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৯:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • ৫১২

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কথিত রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্র রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। এদের মধ্যে আলোচনায় এসেছে কথিত ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেট’-এর নাম।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে পরিচিত আজিম উদ্দীন বেনাপোল ও যশোর অঞ্চলে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে আমদানিকৃত বৈধ পণ্যের আড়ালে উচ্চ শুল্কযুক্ত ও নিষিদ্ধ পণ্য দেশে এনে তারা অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। এসব সম্পদের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আজিম উদ্দীন একসময় ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায় যুক্ত হয়ে দ্রুত আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে তিনি এবং তার সহযোগীরা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে সীমান্তপথে অস্ত্র, মাদকজাতীয় ওষুধ, সাপের বিষ, মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ, চুল, ব্লেডসহ বিভিন্ন উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য দেশে আনা হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর কয়েকটি চালান আটক হলেও অভিযোগ অনুযায়ী, মূল হোতারা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন।

বেনাপোল কার্গো শাখার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভারতীয় একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানিকৃত কাঁচামরিচের একটি চালানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবি। ওই চালানের বাংলাদেশি আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথিত সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।

সীমান্ত সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, অতীতেও অস্ত্র ও চোরাচালান সংক্রান্ত ঘটনায় আজিম উদ্দীনের নাম উঠে এসেছিল। এছাড়া বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায় জড়িত একটি চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গোপন অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, বৈধ পণ্যের আড়ালে অবৈধ পণ্য আমদানি ও খালাসের জন্য ভিন্ন ভিন্ন লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব লাইসেন্স মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভাড়া নিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হতো, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আজিম উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে, বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকির এ সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়ে আসছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বেনাপোল ও যশোরে গড়ে ওঠা বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে নামলে রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

ব্রাজিল-জাপান মহারণ আজ: নেইমার-ভিনিসিয়াসের সামনে জাপানের চ্যালেঞ্জ

বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ফাঁকি: ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেট’ নিয়ে তোলপাড়, তদন্তের দাবি জোরালো

আপডেট: ১০:১৯:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কথিত রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্র রাজস্ব ফাঁকির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছে। এদের মধ্যে আলোচনায় এসেছে কথিত ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেট’-এর নাম।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য হিসেবে পরিচিত আজিম উদ্দীন বেনাপোল ও যশোর অঞ্চলে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভারত থেকে আমদানিকৃত বৈধ পণ্যের আড়ালে উচ্চ শুল্কযুক্ত ও নিষিদ্ধ পণ্য দেশে এনে তারা অবৈধভাবে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। এসব সম্পদের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আজিম উদ্দীন একসময় ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায় যুক্ত হয়ে দ্রুত আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে তিনি এবং তার সহযোগীরা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে সীমান্তপথে অস্ত্র, মাদকজাতীয় ওষুধ, সাপের বিষ, মোবাইল ফোন ও যন্ত্রাংশ, চুল, ব্লেডসহ বিভিন্ন উচ্চ শুল্কযুক্ত পণ্য দেশে আনা হয়। গত বছরের ৫ আগস্টের পর কয়েকটি চালান আটক হলেও অভিযোগ অনুযায়ী, মূল হোতারা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছেন।

বেনাপোল কার্গো শাখার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ভারতীয় একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমদানিকৃত কাঁচামরিচের একটি চালানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করে বিজিবি। ওই চালানের বাংলাদেশি আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথিত সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে।

সীমান্ত সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, অতীতেও অস্ত্র ও চোরাচালান সংক্রান্ত ঘটনায় আজিম উদ্দীনের নাম উঠে এসেছিল। এছাড়া বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায় জড়িত একটি চক্রের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

গোপন অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে অভিযোগ করা হয়েছে, বৈধ পণ্যের আড়ালে অবৈধ পণ্য আমদানি ও খালাসের জন্য ভিন্ন ভিন্ন লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব লাইসেন্স মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ভাড়া নিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হতো, যার ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আজিম উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে সাংবাদিকদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এদিকে, কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে, বন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ফাঁকির এ সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়ে আসছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, বেনাপোল ও যশোরে গড়ে ওঠা বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে নামলে রাজস্ব ফাঁকি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে পারে।