০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:০৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
  • ৫০৭

 

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে জব্দ করা প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, র‍্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান।

বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৮ জনকে আটক এবং ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল।

ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৭৯১ বোতল মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০টি ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯টি বিড়ি ও সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, দুই বোতল লিকুইড সিসা, মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত ১০০ কেজি বটপাতা, ৭২ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম এলএসডি, ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং আফিম তৈরির ২০ বোতল রাসায়নিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে বিজিবি সদস্যরা মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, “মাদক একটি সামাজিক মহামারি। এটি প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত

৪ জুলাই বেনাপোলে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নতুন আশা

সাতক্ষীরায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি

আপডেট: ০৪:০৩:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

 

সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে জব্দ করা প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ, খুলনা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, র‍্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান।

বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৪৮ জনকে আটক এবং ১২৬ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৬ টাকা মূল্যের বিভিন্ন চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ছিল।

ধ্বংস করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৭৯১ বোতল মদ, ৪ হাজার ৫২৪ বোতল ফেনসিডিল ও সমজাতীয় মাদক, ৪৭ হাজার ২৭০টি ইয়াবা, ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯টি বিড়ি ও সিগারেট, ৩৩ দশমিক ৪ কেজি গাঁজা, ৬৩ লাখ ১৩ হাজার ১২০ পিস বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ওষুধ, ৩৫ কেজি তামাকের গুঁড়া, দুই বোতল লিকুইড সিসা, মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত ১০০ কেজি বটপাতা, ৭২ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম এলএসডি, ৮ দশমিক ৫৮৩ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস) এবং আফিম তৈরির ২০ বোতল রাসায়নিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত এলাকায় দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে বিজিবি সদস্যরা মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

তিনি আরও বলেন, “মাদক একটি সামাজিক মহামারি। এটি প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।