যশোরের বেনাপোল সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১৩টি স্বর্ণের বারসহ এক স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণ ও অন্যান্য আলামতের মোট সিজার মূল্য ২ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ১৫০ টাকা।
শুক্রবার (২৬ জুন) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বেনাপোল বিওপির একটি আভিযানিক টহল দল যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের গদখালী বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কোমরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ১ কেজি ১৫৮ গ্রাম ওজনের ১৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তি সাহাব উদ্দিন সরদার (৪৪)। তিনি যশোর জেলার বেনাপোল থানার বালুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি জানান, ঢাকার সায়দাবাদ এলাকার একটি চোরাচালান চক্রের কাছ থেকে তিনি স্বর্ণের বারগুলো সংগ্রহ করেন। সেগুলো ভারত পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তবর্তী পুটখালী এলাকার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া ১৩টি স্বর্ণের বারের আনুমানিক বাজারমূল্য ২ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৫০ টাকা। এছাড়া জব্দ করা মোটরসাইকেলের মূল্য ১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং মোবাইল ফোনের মূল্য ১ হাজার ৪০০ টাকা। সব মিলিয়ে জব্দকৃত আলামতের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ১৫০ টাকা।
আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলা দায়ের করে তাকে যশোরের ঝিকরগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান (পিএসসি) বলেন, “সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বর্ণ, মাদক ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















