০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

উন্নত রকেট লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:২৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ৫১১

উন্নত আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন পরীক্ষাটি সরাসরি তদারকি করেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পরিচালিত এই অস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় উন্নত ২৪০ মিলিমিটার ২৪-টিউব মাল্টিপল রকেট লঞ্চার, বিশেষ মিশনের ওয়ারহেডসংবলিত ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫৫ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজারের নতুন গোলাবারুদের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, উন্নত ২৪০ মিলিমিটার মাল্টিপল রকেট লঞ্চারের কার্যকর পাল্লা এখন ৯০ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। এতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ফায়ার কন্ট্রোল ব্যবস্থা এবং উচ্চ নির্ভুলতায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে।

এছাড়া পরীক্ষায় ব্যবহৃত নতুন ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ ওয়ারহেড বিমানঘাঁটি, সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং। নতুন ১৫৫ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজারের গোলার কার্যকর পাল্লা ৬৫ কিলোমিটার বলেও জানানো হয়েছে।

অস্ত্র পরীক্ষার পর কিম জং উন বলেন, সামরিক আধুনিকায়ন নীতির আওতায় উত্তর কোরিয়া যে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করেছে, এই পরীক্ষা তারই প্রমাণ। বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া শুধু প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে না; সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করতে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও গড়ে তুলছে। তাঁর দাবি, দেশের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা অল্প সময়ের মধ্যেই আরও আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে কোরীয় উপদ্বীপে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি প্রযুক্তির উন্নয়ন আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে বিজিবির অভিযানে ১৩টি স্বর্ণের বারসহ পাচারকারী আটক

উন্নত রকেট লঞ্চার ও ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া

আপডেট: ১২:২৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

উন্নত আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন পরীক্ষাটি সরাসরি তদারকি করেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পরিচালিত এই অস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় উন্নত ২৪০ মিলিমিটার ২৪-টিউব মাল্টিপল রকেট লঞ্চার, বিশেষ মিশনের ওয়ারহেডসংবলিত ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৫৫ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজারের নতুন গোলাবারুদের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, উন্নত ২৪০ মিলিমিটার মাল্টিপল রকেট লঞ্চারের কার্যকর পাল্লা এখন ৯০ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে। এতে আধুনিক স্বয়ংক্রিয় ফায়ার কন্ট্রোল ব্যবস্থা এবং উচ্চ নির্ভুলতায় লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে।

এছাড়া পরীক্ষায় ব্যবহৃত নতুন ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ ওয়ারহেড বিমানঘাঁটি, সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং। নতুন ১৫৫ মিলিমিটার স্বচালিত হাউইটজারের গোলার কার্যকর পাল্লা ৬৫ কিলোমিটার বলেও জানানো হয়েছে।

অস্ত্র পরীক্ষার পর কিম জং উন বলেন, সামরিক আধুনিকায়ন নীতির আওতায় উত্তর কোরিয়া যে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অর্জন করেছে, এই পরীক্ষা তারই প্রমাণ। বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া শুধু প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে না; সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করতে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর আক্রমণাত্মক সক্ষমতাও গড়ে তুলছে। তাঁর দাবি, দেশের দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা অল্প সময়ের মধ্যেই আরও আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থায় রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে কোরীয় উপদ্বীপে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি প্রযুক্তির উন্নয়ন আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।