ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪ হাজার ৩০০ জন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলের উপকূলীয় রাজ্য লা গুইরা। ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে রাজ্যটিতে শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং ৭০ হাজারের বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। লা গুইরায় মোতায়েনকৃত উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা ৪ হাজার ২০০ থেকে বাড়িয়ে ১১ হাজার ৫০০ জন করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় হাসপাতালগুলো রোগীতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে একাধিক ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করা হয়েছে।
তবে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট এবং দক্ষ চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর অভাবে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে, ফলে দুর্গতদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
লা গুইরার বাসিন্দা ল্যারি রোজাস জানান, তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন, কিন্তু উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছাতে পারেনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাডো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানান, অনেক আহত ব্যক্তি হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারাচ্ছেন। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি সেবার ওপরও তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মানবিক এই বিপর্যয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়েছে প্রতিবেশী কলম্বিয়া। শুক্রবার ভোরে ৬২ জন উদ্ধারকর্মী এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনুসন্ধানী কুকুরের একটি দল ভেনেজুয়েলার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে আরও একটি ফ্লাইট পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) সতর্ক করে জানিয়েছে, দুর্গম পাহাড়ি ও নৌপথনির্ভর এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো পৌঁছাতে পারেননি। পাশাপাশি অব্যাহত আফটারশকের কারণে উদ্ধার অভিযান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব কারণে চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব ভেনেজুয়েলার জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া হাজারো মানুষের জীবন বাঁচাতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান। স্বজনদের আহাজারি, চিকিৎসা সংকট এবং অব্যাহত আফটারশকের মধ্যে ভেনেজুয়েলা এখন এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি।




















