১২:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থী! কুমিল্লায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৩৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৫৫৯

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিজ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাজি আমীর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়াকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু তিনি নিজে খাতা মূল্যায়ন না করে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্রে নম্বর প্রদান করিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই শিক্ষার্থীকে বোর্ড পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। এ সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শিক্ষার্থীর এক বন্ধুকে বলতে শোনা যায়, “বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ডের খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ।” জবাবে ওই শিক্ষার্থী বলে, “এটা একটি ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দিই, তা বাচ্চু স্যারও দিত না।”

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই বোর্ড পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কাজে কোনো শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রোকনুজ্জামান খান বলেন, “বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ধরনের কাজে কোনো শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা হলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।”

এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেস ক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অভিযুক্ত শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডও তদন্ত করবে। আমরাও তদন্ত করব। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “স্থানীয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন। আমাকেও অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছা কাঁচাবাজারে ১৮ অবৈধ দোকান, জায়গা না পেয়ে ফিরছেন কৃষক-ব্যাপারী

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে শিক্ষার্থী! কুমিল্লায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ,

আপডেট: ১০:৩৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজে নিজ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার আবদুল্লাহপুর হাজি আমীর উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়াকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এসএসসি পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু তিনি নিজে খাতা মূল্যায়ন না করে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্রে নম্বর প্রদান করিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই শিক্ষার্থীকে বোর্ড পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা যায়। এ সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শিক্ষার্থীর এক বন্ধুকে বলতে শোনা যায়, “বাচ্চু স্যার তোকে দিয়ে বোর্ডের খাতা মার্কিং করায়, ভালো করে দেখ।” জবাবে ওই শিক্ষার্থী বলে, “এটা একটি ছেলের লাইফ। আমি যে নম্বর দিই, তা বাচ্চু স্যারও দিত না।”

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকেই বোর্ড পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কাজে কোনো শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রোকনুজ্জামান খান বলেন, “বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ধরনের কাজে কোনো শিক্ষার্থীকে যুক্ত করা হলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাই।”

এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, জেলা শিক্ষা অফিস এবং দেবীদ্বার উপজেলা প্রেস ক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগপত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অভিযুক্ত শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, “আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডও তদন্ত করবে। আমরাও তদন্ত করব। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “স্থানীয়রা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন। আমাকেও অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।