০৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চৌগাছা কাঁচাবাজারে ১৮ অবৈধ দোকান, জায়গা না পেয়ে ফিরছেন কৃষক-ব্যাপারী

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:১৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০২

যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজারে অবৈধভাবে ১৮টি দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এসব স্থাপনার কারণে বাজারে জায়গা সংকট তৈরি হওয়ায় কৃষকেরা পণ্য নিয়ে বসতে পারছেন না। একই সঙ্গে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক ব্যাপারী বাজার ছেড়ে সাতমাইলসহ আশপাশের হাটে চলে যাচ্ছেন। এতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে না পেরে লোকসান গুনছেন চাষিরা।

শুক্রবার দুপুরে বাজার ঘুরে কৃষক, আড়তদার, শ্রমিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, বাজারের একটি বড় অংশ অবৈধ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায় দখল হয়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্য ওঠানামা ও কেনাবেচা ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে কাদা-মাটি ও পার্কিং সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌগাছা কাঁচাবাজার আড়তদার ব্যবসায়িক সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের বিরুদ্ধে ১৮টি দোকান নির্মাণের জন্য প্রতিটি দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন। তারা বলেন, “আমরা কোনো টাকা-পয়সা লেনদেন করিনি। তবে জায়গার অভাবে বাজারে ট্রাক ঢুকতে পারছে না, এটা সত্যি।”

বাজারে আসা কৃষকেরা জানান, উৎপাদন খরচ, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে পণ্য নিয়ে বাজারে এসে বিক্রির জায়গা না পেলে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় ব্যাপারী না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পণ্য বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবহন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে কাঁচা সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

চাষি আজিজুর রহমান বলেন, “কষ্ট করে খেতের সবজি তুলে হাটে এসে দেখি বসার মতো জায়গা নেই। বাজারের মধ্যে কয়েকটি দোকান তৈরি হওয়ায় পুরো বাজার জ্যাম হয়ে থাকে। সারা দিন বসে থেকেও সবজি বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে।”

কাবিলপুরের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এনজিওর ঋণ ও নিজের জমানো টাকা দিয়ে পটল-বেগুন চাষ করেছি। কিন্তু বাজারে জায়গা না থাকায় এবং ব্যাপারী না আসায় মাল বিক্রি করতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে চরম বিপদে পড়তে হবে।”

আড়তদার কাজী আশরাফ আলী বলেন, জায়গা ও গাড়ি রাখার সুবিধা না থাকায় অনেক ব্যাপারী সাতমাইলে চলে গেছেন। ফলে চৌগাছা বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু কৃষিপণ্য করিমনে করে সাতমাইলে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আরেক আড়তদার মো. পলাশ হোসেন বলেন, গাড়ি রাখার জায়গার সংকটের পাশাপাশি কাদা-মাটির কারণে বাজারের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে কৃষক ও ব্যাপারী উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাজারে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য থাকলেও ব্যাপারী কম থাকায় সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু বলেন, “১৪৩৩ বঙ্গাব্দে পৌরসভার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে আমি হাটটির ইজারা পাই। ইজারার শর্ত অনুযায়ী জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। কিন্তু জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়াই কাঁচাবাজার সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের নেতৃত্বে ১৮টি দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে ইজারাকৃত জায়গায় অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, এসব স্থাপনার কারণে বাজারের স্বাভাবিক কেনাবেচা ব্যাহত হচ্ছে। আশপাশের চার-পাঁচটি এলাকার কৃষকেরা পণ্য নিয়ে এসে বিক্রি করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

চৌগাছা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, “আমরা বিষয়টি দেখছি।”

সর্বাধিক পঠিত

চৌগাছা কাঁচাবাজারে ১৮ অবৈধ দোকান, জায়গা না পেয়ে ফিরছেন কৃষক-ব্যাপারী

চৌগাছা কাঁচাবাজারে ১৮ অবৈধ দোকান, জায়গা না পেয়ে ফিরছেন কৃষক-ব্যাপারী

আপডেট: ০৭:১৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যশোরের চৌগাছা কাঁচাবাজারে অবৈধভাবে ১৮টি দোকান নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এসব স্থাপনার কারণে বাজারে জায়গা সংকট তৈরি হওয়ায় কৃষকেরা পণ্য নিয়ে বসতে পারছেন না। একই সঙ্গে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন রাখার পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেক ব্যাপারী বাজার ছেড়ে সাতমাইলসহ আশপাশের হাটে চলে যাচ্ছেন। এতে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রি করতে না পেরে লোকসান গুনছেন চাষিরা।

শুক্রবার দুপুরে বাজার ঘুরে কৃষক, আড়তদার, শ্রমিক ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, বাজারের একটি বড় অংশ অবৈধ দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনায় দখল হয়ে যাওয়ায় কৃষিপণ্য ওঠানামা ও কেনাবেচা ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে কাদা-মাটি ও পার্কিং সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌগাছা কাঁচাবাজার আড়তদার ব্যবসায়িক সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের বিরুদ্ধে ১৮টি দোকান নির্মাণের জন্য প্রতিটি দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন। তারা বলেন, “আমরা কোনো টাকা-পয়সা লেনদেন করিনি। তবে জায়গার অভাবে বাজারে ট্রাক ঢুকতে পারছে না, এটা সত্যি।”

বাজারে আসা কৃষকেরা জানান, উৎপাদন খরচ, পরিবহন ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে পণ্য নিয়ে বাজারে এসে বিক্রির জায়গা না পেলে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় ব্যাপারী না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পণ্য বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে একদিকে পরিবহন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে কাঁচা সবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

চাষি আজিজুর রহমান বলেন, “কষ্ট করে খেতের সবজি তুলে হাটে এসে দেখি বসার মতো জায়গা নেই। বাজারের মধ্যে কয়েকটি দোকান তৈরি হওয়ায় পুরো বাজার জ্যাম হয়ে থাকে। সারা দিন বসে থেকেও সবজি বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে হচ্ছে।”

কাবিলপুরের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এনজিওর ঋণ ও নিজের জমানো টাকা দিয়ে পটল-বেগুন চাষ করেছি। কিন্তু বাজারে জায়গা না থাকায় এবং ব্যাপারী না আসায় মাল বিক্রি করতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে চরম বিপদে পড়তে হবে।”

আড়তদার কাজী আশরাফ আলী বলেন, জায়গা ও গাড়ি রাখার সুবিধা না থাকায় অনেক ব্যাপারী সাতমাইলে চলে গেছেন। ফলে চৌগাছা বাজারে কৃষিপণ্য বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কিছু কৃষিপণ্য করিমনে করে সাতমাইলে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আরেক আড়তদার মো. পলাশ হোসেন বলেন, গাড়ি রাখার জায়গার সংকটের পাশাপাশি কাদা-মাটির কারণে বাজারের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এতে কৃষক ও ব্যাপারী উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাজারে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য থাকলেও ব্যাপারী কম থাকায় সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চৌগাছা পৌরসভার সাধারণ হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু বলেন, “১৪৩৩ বঙ্গাব্দে পৌরসভার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে আমি হাটটির ইজারা পাই। ইজারার শর্ত অনুযায়ী জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। কিন্তু জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়াই কাঁচাবাজার সমিতির সভাপতি ফসিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেনের নেতৃত্বে ১৮টি দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নিয়ে ইজারাকৃত জায়গায় অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, এসব স্থাপনার কারণে বাজারের স্বাভাবিক কেনাবেচা ব্যাহত হচ্ছে। আশপাশের চার-পাঁচটি এলাকার কৃষকেরা পণ্য নিয়ে এসে বিক্রি করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

চৌগাছা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসমিন জাহান বলেন, “আমরা বিষয়টি দেখছি।”