০১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে অডিট, অনুমোদন ছাড়াই দায়িত্ব বণ্টনের অভিযোগ মাশুক বিল্লাহর বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:২২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৫

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটে পছন্দের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দপ্তরের হিসাব নিয়ন্ত্রক মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খানের বিরুদ্ধে। একই কর্মকর্তাকে একাধিক জেলার অডিটের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে কর্মকর্তাদের কাজে পাঠানো এবং বিধিবহির্ভূত বদলির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটে পাঠানো, দ্বিতীয় শ্রেণির হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি এবং কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আখতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, অভিযোগ আমলে নিয়ে একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্ব পালন করার কথা তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ দায়িত্বের পরিবর্তে এক ধাপ উচ্চতর পদমর্যাদার সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের দিয়ে অডিট করানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির কোনো কর্মকর্তাকে নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে কাজে পাঠাতে হলে মন্ত্রণালয়ের মৌখিক বা লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

নথিপত্রে দেখা যায়, গত ৫ মে ঢাকা বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) আবুল কাশেমকে একটি অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগেও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অডিটের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে গত জুনে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাকে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর বা চট্টগ্রাম দক্ষিণের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব না দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দিদারুল আলম পাটোয়ারীকে তিন পার্বত্য জেলার অডিটের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মাশুক বিল্লাহর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের বিধিবহির্ভূতভাবে বদলির অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কিছু কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে অন্য জেলায় বদলি কিংবা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, অভিযোগগুলোর প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অডিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সফরসূচি, টিএ-ডিএ বিল, ভাউচার, অনুমোদনপত্র, অডিট রিপোর্ট, দায়িত্ব বণ্টনের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবের নথিপত্র পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে একই কর্মকর্তা ধারাবাহিকভাবে একাধিক জেলার অডিটের দায়িত্ব পেয়ে থাকলে তার সফর ব্যয়, সময়কাল, অডিটের ফলাফল এবং দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে, আগামী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির সামনে মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খানের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাশুক বিল্লাহ বলেন, তিনি আগের নিয়ম অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি এ দায়িত্বে রয়েছেন। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা অজ্ঞতাবশত হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে অডিট, অনুমোদন ছাড়াই দায়িত্ব বণ্টনের অভিযোগ মাশুক বিল্লাহর বিরুদ্ধে

পছন্দের কর্মকর্তাদের দিয়ে অডিট, অনুমোদন ছাড়াই দায়িত্ব বণ্টনের অভিযোগ মাশুক বিল্লাহর বিরুদ্ধে

আপডেট: ০১:২২:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটে পছন্দের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দপ্তরের হিসাব নিয়ন্ত্রক মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খানের বিরুদ্ধে। একই কর্মকর্তাকে একাধিক জেলার অডিটের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে কর্মকর্তাদের কাজে পাঠানো এবং বিধিবহির্ভূত বদলির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটে পাঠানো, দ্বিতীয় শ্রেণির হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলি এবং কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আখতার হোসেনকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, অভিযোগ আমলে নিয়ে একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্ব পালন করার কথা তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের। তবে অভিযোগ রয়েছে, এ দায়িত্বের পরিবর্তে এক ধাপ উচ্চতর পদমর্যাদার সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের দিয়ে অডিট করানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির কোনো কর্মকর্তাকে নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে কাজে পাঠাতে হলে মন্ত্রণালয়ের মৌখিক বা লিখিত অনুমোদন প্রয়োজন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

নথিপত্রে দেখা যায়, গত ৫ মে ঢাকা বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) আবুল কাশেমকে একটি অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগেও ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অডিটের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে গত জুনে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অডিটের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাকে।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম উত্তর বা চট্টগ্রাম দক্ষিণের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব না দিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারী হিসাব নিয়ন্ত্রক (রাজস্ব) দিদারুল আলম পাটোয়ারীকে তিন পার্বত্য জেলার অডিটের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মাশুক বিল্লাহর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় শ্রেণির হিসাব তত্ত্বাবধায়ক (রাজস্ব) কর্মকর্তাদের বিধিবহির্ভূতভাবে বদলির অভিযোগও তদন্তের আওতায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কিছু কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে অন্য জেলায় বদলি কিংবা মামলা দেওয়ার ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, অভিযোগগুলোর প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। অডিটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সফরসূচি, টিএ-ডিএ বিল, ভাউচার, অনুমোদনপত্র, অডিট রিপোর্ট, দায়িত্ব বণ্টনের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবের নথিপত্র পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে একই কর্মকর্তা ধারাবাহিকভাবে একাধিক জেলার অডিটের দায়িত্ব পেয়ে থাকলে তার সফর ব্যয়, সময়কাল, অডিটের ফলাফল এবং দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে, আগামী রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির সামনে মো. মাশুক বিল্লাহ আরেফ খানের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাশুক বিল্লাহ বলেন, তিনি আগের নিয়ম অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি এ দায়িত্বে রয়েছেন। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা অজ্ঞতাবশত হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।