০৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ভারত থেকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরলেন পাচারের শিকার ৬ বাংলাদেশি নারী

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৫০৯

বেনাপোল প্রতিনিধি:

ভারতে পাচারের শিকার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৬ বাংলাদেশি নারী। বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বিজিবি, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারত সরকারের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, হায়দ্রাবাদের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) কর্তৃক জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ ও ‘এক্সিট পারমিট’-এর আওতায় তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ফিরে আসা নারীরা চাঁদপুর, যশোর, ঢাকা, শরীয়তপুর, টাঙ্গাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে।

ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে তারা ভারতে পাচারের শিকার হন। পরে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেন। সাজা শেষে তাদের বিভিন্ন সেল্টার হোমে রাখা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা জানান, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে পরবর্তী আইনি সহায়তার জন্য তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ফেরত আসা নারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর আগে তাদের যশোর হোমে রাখা হবে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সীমান্তপথে মানবপাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সর্বাধিক পঠিত

ভারত থেকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরলেন পাচারের শিকার ৬ বাংলাদেশি নারী

ভারত থেকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরলেন পাচারের শিকার ৬ বাংলাদেশি নারী

আপডেট: ০৫:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি:

ভারতে পাচারের শিকার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৬ বাংলাদেশি নারী। বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।

হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বিজিবি, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারত সরকারের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, হায়দ্রাবাদের ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) কর্তৃক জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ ও ‘এক্সিট পারমিট’-এর আওতায় তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ফিরে আসা নারীরা চাঁদপুর, যশোর, ঢাকা, শরীয়তপুর, টাঙ্গাইল ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা। তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে।

ইমিগ্রেশন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়ে দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে তারা ভারতে পাচারের শিকার হন। পরে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেন। সাজা শেষে তাদের বিভিন্ন সেল্টার হোমে রাখা হয়। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা জানান, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করে পরবর্তী আইনি সহায়তার জন্য তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ফেরত আসা নারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর আগে তাদের যশোর হোমে রাখা হবে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, সীমান্তপথে মানবপাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।