০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ঝিকরগাছায় দিনের বেলা কৃষক, রাতে নাশকতার ছক: আতঙ্কে এলাকাবাসী*

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৩৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৫১১

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও বিলুপ্ত আওয়ামী লীগের ক্যাডার ও নাশকতাকারী হিসেবে পরিচিত আলাল উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আলাল দিনের বেলা কৃষিকাজ করলেও রাত নামলেই আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জড়ো করে গোপন বৈঠক করছেন এবং সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা করছেন।
আলাল উদ্দিন নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
গ্রামবাসীরা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলাল উদ্দিন তার মদদদাতা মনিরুল ইসলামের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় বিএনপিপন্থিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। তার সাথে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল তার খালাতো ভাই ও নাভারণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাশেম শিকদার এবং মামা আবুল কালাম। তাদের অত্যাচারে বহু বিএনপি নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনায় সালিশ বসিয়ে মোটা অংকের জরিমানা আদায় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখতো। এমনকি, গভীর রাতে বাড়িতে অস্ত্রধারী পাঠিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখানোর মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে এই চক্রটি।
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর বর্তমানে তারা আবারও এলাকায় ফিরে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের একাধিক অভিযানেও অদৃশ্য কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের নীরব ভূমিকার সুযোগ নিয়ে আলাল ও তার সহযোগীরা এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গভীর রাত পর্যন্ত অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা ও গোপন মিটিং তাদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক হায়দার আলী বলেন, “আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা যদি এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করে, তবে আমরা দলীয়ভাবে তাদের প্রতিহত করবো। কোনোভাবেই সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।”
অভিযুক্ত আলাল উদ্দিন নির্লজ্জভাবে তার রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগ পরিবার, দলের পক্ষে থাকতেই হয়। যারা আওয়ামী লীগ করে তারা কখনো ভয় পায় না। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, “আলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তবে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে আলাল উদ্দিন, কাশেম শিকদার ও আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সর্বাধিক পঠিত

ভারত থেকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে দেশে ফিরলেন পাচারের শিকার ৬ বাংলাদেশি নারী

ঝিকরগাছায় দিনের বেলা কৃষক, রাতে নাশকতার ছক: আতঙ্কে এলাকাবাসী*

আপডেট: ০৫:৩৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নাভারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত ও বিলুপ্ত আওয়ামী লীগের ক্যাডার ও নাশকতাকারী হিসেবে পরিচিত আলাল উদ্দিনের কর্মকাণ্ডে জনমনে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আলাল দিনের বেলা কৃষিকাজ করলেও রাত নামলেই আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জড়ো করে গোপন বৈঠক করছেন এবং সরকারবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা করছেন।
আলাল উদ্দিন নাভারণ ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ডাঙ্গী গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং ঝিকরগাছা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
গ্রামবাসীরা জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলাল উদ্দিন তার মদদদাতা মনিরুল ইসলামের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এলাকায় বিএনপিপন্থিদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছেন। তার সাথে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল তার খালাতো ভাই ও নাভারণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাশেম শিকদার এবং মামা আবুল কালাম। তাদের অত্যাচারে বহু বিএনপি নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তুচ্ছ ঘটনায় সালিশ বসিয়ে মোটা অংকের জরিমানা আদায় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখতো। এমনকি, গভীর রাতে বাড়িতে অস্ত্রধারী পাঠিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে ভয় দেখানোর মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে এই চক্রটি।
গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর বর্তমানে তারা আবারও এলাকায় ফিরে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের একাধিক অভিযানেও অদৃশ্য কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের নীরব ভূমিকার সুযোগ নিয়ে আলাল ও তার সহযোগীরা এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গভীর রাত পর্যন্ত অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনা ও গোপন মিটিং তাদের ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে নাভারণ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক হায়দার আলী বলেন, “আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা যদি এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনা করে, তবে আমরা দলীয়ভাবে তাদের প্রতিহত করবো। কোনোভাবেই সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না।”
অভিযুক্ত আলাল উদ্দিন নির্লজ্জভাবে তার রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্বীকার করে বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগ পরিবার, দলের পক্ষে থাকতেই হয়। যারা আওয়ামী লীগ করে তারা কখনো ভয় পায় না। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, “আলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তবে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে আলাল উদ্দিন, কাশেম শিকদার ও আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসে। এ ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।