চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে এবার এক নারীকে পুশইনের (পুশব্যাক) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দল তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলায় ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ওই নারী সীমান্তের শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) অবস্থান করছেন। সোমবার (১৫ জুন) রাত ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার রাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আর কে ওয়াদা বিওপির (বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট) সদস্যরা নৌকাযোগে এক নারীকে নিয়ে সীমান্ত পিলারের কাছে আসেন। তারা সীমান্ত মেইন পিলার ২২৫-এর সাব-পিলার ৩-আর এলাকা দিয়ে জোরপূর্বক ওই নারীকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করার চেষ্টা চালান।
এ সময় রোকনপুর সীমান্তে দায়িত্বরত নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর একটি বিশেষ টহল দল বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত সেখানে অবস্থান নেয় এবং বিএসএফকে কড়া বাধা প্রদান করে। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে ওই নারীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয় বিএসএফ। বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ওই নারী সীমান্তের শূন্য লাইন বরাবর ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান নিতে বাধ্য হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন:“বিজিবি টহল দলের সময়োপযোগী ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ওই নারী বর্তমানে সীমান্তের শূন্য লাইনে রয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি বিজিবি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে বিজিবির টহল জোরদার করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গ উল্লেখ্য যে, রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে গত কয়েকদিনের ব্যবধানে এটি বিএসএফের দ্বিতীয় পুশইনের চেষ্টা। এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) রাতেও একই সীমান্ত দিয়ে ৫ জন শিশু ও নারীসহ মোট ২৮ জন বাংলাভাষীকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছিল বিএসএফ। সে সময়ও বিজিবির তীব্র প্রতিরোধ ও অনড় অবস্থানের কারণে টানা দুই ঘণ্টা পর বিএসএফ তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধ্য হয়। চার দিনের মাথায় আবারও একই সীমান্তে বিএসএফের এই ধরনের আচরণে স্থানীয় সীমান্তবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।





















