যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড়ের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জেলার খেজুরগাছ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ২০ লাখ খেজুর বীজ বপনের বৃহৎ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। সামাজিক সংগঠন ‘উদ্যাম’-এর উদ্যোগে এবং যশোর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সোমবার সদর উপজেলার কনেজপুর-নিমতলা সড়কের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন দেশসেরা কৃষি কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাপস কুমার চক্রবর্তী, উদ্যামের আহ্বায়ক রিশাদ হাসান বিপ্পি, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, দুই সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন সরকারি পতিত জমি, খালি জায়গা এবং সড়কের দুই পাশে ব্যাপকভাবে খেজুর বীজ বপন করা হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, খেজুরগাছের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় উৎপাদন পুনরুদ্ধারই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একসময় খেজুরের রস ও গুড়ের জন্য দেশজুড়ে যশোরের বিশেষ সুনাম ছিল। শীত মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় খেজুরগাছ থেকে সংগৃহীত রস ও গুড়ের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বর্তমানে খেজুরগাছ ও গাছির সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই ঐতিহ্য হুমকির মুখে পড়েছে।
উদ্যামের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন দিলসান বলেন, “আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে খেজুরগাছ ও গাছি। গত পাঁচ বছরে জেলায় প্রায় ৫০ হাজার খেজুরগাছ এবং দেড় হাজার গাছি কমে গেছে। এর ফলে বছরে প্রায় ৫৫ লাখ লিটার খেজুরের রস উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এতে যশোরের ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস ও গুড় ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে।”
তিনি আরও বলেন, “খেজুরগাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়, এটি যশোরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে বৃহৎ পরিসরে খেজুর বীজ বপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা খেজুরগাছ রোপণ ও সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতেও খেজুরগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পিতভাবে ২০ লাখ খেজুর বীজ বপনের এই কর্মসূচি সফল হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জেলায় খেজুরগাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসা খেজুরের রস ও গুড়ের ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।




















