০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুতে বাড়ছে দক্ষিণমুখী যানচাপ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরে ফেরার চাপ বেড়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এলাকায়। ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন বুধবার সকাল থেকেই ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দক্ষিণবঙ্গমুখী যাত্রীদের চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সেতু কর্তৃপক্ষের তদারকিতে এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুর কোথাও বড় ধরনের যানজট বা ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত সোম ও মঙ্গলবার—এই দুই দিনে সেতু দিয়ে মোট ৮৬ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ টাকা।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, ২৬ মে রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ৩০ হাজার ৯৪টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয় ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সময়ে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ৫০৮টি যানবাহন চলাচল করে, যেখানে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ওই দিনে মোট ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন পারাপারের মাধ্যমে টোল আদায় হয় ৫ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা।

এর আগের দিন ২৫ মে ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন পারাপার হয়। তখন টোল আদায় হয় ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। একই সময়ে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন চলাচল করে, যার বিপরীতে আদায় হয় ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ওই দিন ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপারের মাধ্যমে টোল আদায় হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।

বুধবার সকাল থেকেই মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে টোল প্লাজায় অতিরিক্ত লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে টোল প্লাজার সক্ষমতা বাড়ানো, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং যান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘরমুখো যাত্রীরা জানিয়েছেন, আগের বছরের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। বড় ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন তারা।

সর্বাধিক পঠিত

রাজধানীর তেজগাঁও থেকে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা এস্কেন্দার আলী জনি আটক

-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুতে বাড়ছে দক্ষিণমুখী যানচাপ

আপডেট: ০১:৫৬:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরে ফেরার চাপ বেড়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এলাকায়। ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন বুধবার সকাল থেকেই ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি উপেক্ষা করে দক্ষিণবঙ্গমুখী যাত্রীদের চলাচল অব্যাহত রয়েছে। তবে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এবারের ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সেতু কর্তৃপক্ষের তদারকিতে এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুর কোথাও বড় ধরনের যানজট বা ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত সোম ও মঙ্গলবার—এই দুই দিনে সেতু দিয়ে মোট ৮৬ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ টাকা।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানান, ২৬ মে রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ৩০ হাজার ৯৪টি যানবাহন পারাপার হয়। এতে টোল আদায় হয় ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। একই সময়ে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ৫০৮টি যানবাহন চলাচল করে, যেখানে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ওই দিনে মোট ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন পারাপারের মাধ্যমে টোল আদায় হয় ৫ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা।

এর আগের দিন ২৫ মে ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ২৮ হাজার ৪১৫টি যানবাহন পারাপার হয়। তখন টোল আদায় হয় ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা। একই সময়ে জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ৫৯৩টি যানবাহন চলাচল করে, যার বিপরীতে আদায় হয় ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। সব মিলিয়ে ওই দিন ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপারের মাধ্যমে টোল আদায় হয় ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা।

বুধবার সকাল থেকেই মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে টোল প্লাজায় অতিরিক্ত লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক লেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে টোল প্লাজার সক্ষমতা বাড়ানো, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং যান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, বিজিবি ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘরমুখো যাত্রীরা জানিয়েছেন, আগের বছরের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক। বড় ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন তারা।