১২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

বেনাপোলে নিরাপত্তাকর্মী ইউনুস আলী হত্যা মামলায় আরও এক আসামি আটক, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত গামছা

বেনাপোলে নিরাপত্তাকর্মী ইউনুস আলী হত্যা মামলায় আরও এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা একটি গামছাও উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে শার্শা উপজেলার গোগা বাগানপাড়া এলাকা থেকে সোহেল রানাকে আটক করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আটক সোহেল রানা বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের কুদ্দুস সিকদারের ছেলে। এর আগে একই মামলায় রহমতপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও সবুজ হোসেনকে আটক করা হয়েছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

নিহত ইউনুস আলী (৪৭) বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা দাবি করেন, ঘটনার রাতে আনোয়ার ও ইউনুস তার ঘরে যান। এ সময় আনোয়ার তাকে ১০টি ইয়াবা কিনে আনতে বলেন। পরে তিনি ইয়াবা সংগ্রহ করেন। তার দাবি অনুযায়ী, একটি তিনি নিজে সেবন করেন এবং বাকি নয়টি আনোয়ার ও ইউনুস সেবন করেন।

পুলিশের দাবি, কিছু সময় পর ইউনুস আলী অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করলে আনোয়ার জানান, ইয়াবার সঙ্গে তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং এরপর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, পারিবারিক জটিলতা ও পূর্বের দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পুনরায় সংসারকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে বলে পিবিআই দাবি করেছে, গত ২২ এপ্রিল তরিকুল ইসলাম কৌশলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর সবুজের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে একে একে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আটক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তবে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে শ্রমিক নেতা মিজুনের কবর জিয়ারত, পরিবারের পাশে যুবদল নেতা শহীদ

বেনাপোলে নিরাপত্তাকর্মী ইউনুস আলী হত্যা মামলায় আরও এক আসামি আটক, উদ্ধার হত্যায় ব্যবহৃত গামছা

আপডেট: ০৫:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

বেনাপোলে নিরাপত্তাকর্মী ইউনুস আলী হত্যা মামলায় আরও এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা একটি গামছাও উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাতে শার্শা উপজেলার গোগা বাগানপাড়া এলাকা থেকে সোহেল রানাকে আটক করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আটক সোহেল রানা বেনাপোলের রহমতপুর গ্রামের কুদ্দুস সিকদারের ছেলে। এর আগে একই মামলায় রহমতপুর গ্রামের তরিকুল ইসলাম ও সবুজ হোসেনকে আটক করা হয়েছিল। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের দাবি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

নিহত ইউনুস আলী (৪৭) বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের মৃত মোস্তাব আলীর ছেলে। তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরের একটি ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিতে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা দাবি করেন, ঘটনার রাতে আনোয়ার ও ইউনুস তার ঘরে যান। এ সময় আনোয়ার তাকে ১০টি ইয়াবা কিনে আনতে বলেন। পরে তিনি ইয়াবা সংগ্রহ করেন। তার দাবি অনুযায়ী, একটি তিনি নিজে সেবন করেন এবং বাকি নয়টি আনোয়ার ও ইউনুস সেবন করেন।

পুলিশের দাবি, কিছু সময় পর ইউনুস আলী অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করলে আনোয়ার জানান, ইয়াবার সঙ্গে তাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল। পরে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন এবং এরপর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।

পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, পারিবারিক জটিলতা ও পূর্বের দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের স্ত্রী তাসলিমা খাতুনের সঙ্গে একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিয়ে, বিচ্ছেদ ও পুনরায় সংসারকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তে আরও জানা গেছে বলে পিবিআই দাবি করেছে, গত ২২ এপ্রিল তরিকুল ইসলাম কৌশলে ইউনুস আলীকে বাড়ি থেকে ডেকে রহমতপুরের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে আনোয়ারসহ আরও কয়েকজন তাকে আটকে রেখে মারধর ও নির্যাতন চালায়। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর সবুজের অ্যাপাচি মোটরসাইকেলে করে মরদেহ বেনাপোল-পুটখালী সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার পর নিহতের ভাই ইউসুফ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই যশোরের এসআই রতন মিয়া। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে একে একে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আটক করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

তবে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ চিত্র আদালতে উপস্থাপন করা হবে।