রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সোহেল রানার বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তার নিজের বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরাও। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে নেমে এসেছে হতবাক পরিস্থিতি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছোটবেলায় সোহেলের নাম ছিল শুধু “রানা”। পঞ্চম শ্রেণির পর আর পড়াশোনা না করলেও তরুণ বয়সে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে এলাকায় পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। পরে নিজেকে “এস এম রানা” নামে পরিচয় দিতেন। বর্তমানে ঢাকায় তিনি “সোহেল রানা” নামে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল জানান, তরুণ বয়সে একটি সেতুর নির্মাণসামগ্রী চুরির মামলায়ও জেলে যেতে হয়েছিল সোহেলকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দ্বিতীয় বিয়ে করে প্রায় চার বছর আগে ঢাকায় চলে যান সোহেল। এরপর থেকে গ্রামের পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
মহেষচন্দ্রপুর বাজারে সোহেলের চাচা রেজাউল করিম বলেন, ঢাকায় যাওয়ার আগে বাজারে তার একটি সাইকেল মেরামতের দোকান ছিল। প্রথম সংসার ভেঙে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করে সে ঢাকায় চলে যায়। এরপর আর পরিবারের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ রাখেনি।
তিনি আরও বলেন, “সে যা করেছে, সেটা ভয়ংকর অপরাধ। আমরা তার বিচার চাই। আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া উচিত।”
এদিকে সোহেলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো পরিবারে নেমে এসেছে নীরবতা। ছেলে সম্পর্কে জানতে চাইলে তার মা খদেজা বেগম বলেন, “সব বাবা-মাই সন্তানের ভালো চায়। কিন্তু সে যে কাজ করেছে, এরপর আর তাকে সমর্থন করার সুযোগ নেই। আমরা তার বিচার চাই।”
সোহেলের বাবা জেকের আলী বলেন, “আমার ছেলে এমন কাজ করতে পারে বিশ্বাস করা কঠিন। কিন্তু অপরাধ করেছে, তাই আইন যে শাস্তি দেবে আমরা সেটাই মেনে নেব।”




















