০৯:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কেশবপুরে ভুয়া সনদ বাণিজ্যের অভিযোগে পিটিএফ সিলগালা, বন্ধ দুই হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৫২৪

যশোরের কেশবপুরে অনুমোদনহীনভাবে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সনদ বাণিজ্যের অভিযোগে প্যারামেডিকেল এন্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কেশবপুর মাইকেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং কেশবপুর ক্রিস্টাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে অভিযান পরিচালনা করেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা। অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি কেশবপুরে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন সক্রিয় হয়। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন পিটিএফ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জাল সনদ বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ.কে আজাদ ইকতিয়ারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও গোপনে জাল সনদ বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল প্রতারক চক্রটি।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে খুলনার জয়েন্ট স্টক (যৌথ মূলধনি কোম্পানি) থেকে প্রাথমিক অনুমতি নিয়ে কেশবপুর শহরের থানার পাশে মাইকেল মোড়ে একটি বাসা ভাড়া করে পিটিএফের কার্যক্রম শুরু করেন আবুল কালাম আজাদ ইকতিয়ার। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৪৪৩/২০১৬। পরে সেখানে কেন্দ্রীয় হেড অফিসের সাইনবোর্ড টানিয়ে ডিএমএফ, ডিএমএ, ডিএমএস, ডিএইচএমসি, ডিএনএ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এক্স-রে সহ ৫৬টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের নামে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রচারণা ও লিফলেটের মাধ্যমে দেশের নানা জেলা-উপজেলা থেকে বেকার যুবকদের আকৃষ্ট করা হতো। এরপর প্রশিক্ষণ ফি বাবদ জনপ্রতি ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে ডাক্তারি ও বিভিন্ন ট্রেডের সনদ দেওয়া হতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক কোনো প্রশিক্ষণ বা সনদ প্রদান করতে হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) মহাখালী, ঢাকা থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই শুধুমাত্র জয়েন্ট স্টকের নিবন্ধন ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, “পিটিএফ নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন ট্রেডের ভুয়া সনদ বিক্রি করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেশবপুর মাইকেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও কেশবপুর ক্রিস্টাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদের কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সোমবার (১১ মে) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

কেশবপুরে ভুয়া সনদ বাণিজ্যের অভিযোগে পিটিএফ সিলগালা, বন্ধ দুই হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার

আপডেট: ০৯:৪৮:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

যশোরের কেশবপুরে অনুমোদনহীনভাবে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সনদ বাণিজ্যের অভিযোগে প্যারামেডিকেল এন্ড টেকনোলজি ফাউন্ডেশন (পিটিএফ) নামের একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কেশবপুর মাইকেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং কেশবপুর ক্রিস্টাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে অভিযান পরিচালনা করেন যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা। অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, সম্প্রতি কেশবপুরে ২৩টি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন সক্রিয় হয়। এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন পিটিএফ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে জাল সনদ বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ.কে আজাদ ইকতিয়ারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, এরপরও গোপনে জাল সনদ বিক্রির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল প্রতারক চক্রটি।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে খুলনার জয়েন্ট স্টক (যৌথ মূলধনি কোম্পানি) থেকে প্রাথমিক অনুমতি নিয়ে কেশবপুর শহরের থানার পাশে মাইকেল মোড়ে একটি বাসা ভাড়া করে পিটিএফের কার্যক্রম শুরু করেন আবুল কালাম আজাদ ইকতিয়ার। প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৪৪৩/২০১৬। পরে সেখানে কেন্দ্রীয় হেড অফিসের সাইনবোর্ড টানিয়ে ডিএমএফ, ডিএমএ, ডিএমএস, ডিএইচএমসি, ডিএনএ, প্যাথলজি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, এক্স-রে সহ ৫৬টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের নামে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রচারণা ও লিফলেটের মাধ্যমে দেশের নানা জেলা-উপজেলা থেকে বেকার যুবকদের আকৃষ্ট করা হতো। এরপর প্রশিক্ষণ ফি বাবদ জনপ্রতি ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে ডাক্তারি ও বিভিন্ন ট্রেডের সনদ দেওয়া হতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক কোনো প্রশিক্ষণ বা সনদ প্রদান করতে হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) মহাখালী, ঢাকা থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই শুধুমাত্র জয়েন্ট স্টকের নিবন্ধন ব্যবহার করে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, “পিটিএফ নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন ট্রেডের ভুয়া সনদ বিক্রি করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেশবপুর মাইকেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও কেশবপুর ক্রিস্টাল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাদের কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, সোমবার (১১ মে) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।