১০:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

৪০ বছরেও ভবন পায়নি পাঁচভুলোট দাখিল মাদ্রাসা, ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেডে চলছে পাঠদান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৭:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৫১৯

যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচভুলোট দাখিল মাদ্রাসা দীর্ঘ ৪০ বছরেও সরকারি ভবন না পাওয়ায় জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই চলছে পাঠদান। বৃষ্টি বা ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিলেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আগেভাগে ছুটি ঘোষণা করতে হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

উপজেলার ৬ নম্বর গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলোট গ্রামে অবস্থিত মাদ্রাসাটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হলেও এখনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি প্রতিষ্ঠানটিতে। ফলে শত শত শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে লেখাপড়া করতে হচ্ছে।

বর্তমানে এবতেদায়ী থেকে দাখিল স্তর পর্যন্ত পাঠদান চলছে মাদ্রাসাটিতে। এখানে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৯২ জন। এর মধ্যে এবতেদায়ী শাখায় ১৬২ জন এবং দাখিল শাখায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক ও কর্মচারীর অনুমোদিত পদ ২৬টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৯ জন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো টিনশেড ভবনের বিভিন্ন স্থানে মরিচা পড়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং বেঞ্চ ভিজে যায়। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা রক্ষায় বেঞ্চ সরিয়ে বসতে হয়। এছাড়া গ্রীষ্মকালে টিনশেড কক্ষ অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মারুফ হাসান বলে, “বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। অনেক সময় বই-খাতা ভিজে যায়। গরমের সময় ক্লাস করাও খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে।”

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসলিমা খাতুন জানায়, “প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভালো ভবন হলে পড়াশোনা আরও স্বাভাবিকভাবে করা যেত।”

তবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার মান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবছর দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করছে মাদ্রাসাটি। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আব্দুল মজিদ সর্দার বলেন, “এটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।”

মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আয়ুব আলী বলেন, “প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো পাকা ভবন নেই। শিক্ষকদের বসারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। একটি চারতলা ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।”

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত মাদ্রাসাটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

৪০ বছরেও ভবন পায়নি পাঁচভুলোট দাখিল মাদ্রাসা, ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেডে চলছে পাঠদান

আপডেট: ১০:১৭:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচভুলোট দাখিল মাদ্রাসা দীর্ঘ ৪০ বছরেও সরকারি ভবন না পাওয়ায় জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই চলছে পাঠদান। বৃষ্টি বা ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিলেই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় আগেভাগে ছুটি ঘোষণা করতে হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

উপজেলার ৬ নম্বর গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলোট গ্রামে অবস্থিত মাদ্রাসাটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রায় তিন যুগ আগে এমপিওভুক্ত হলেও এখনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি প্রতিষ্ঠানটিতে। ফলে শত শত শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে লেখাপড়া করতে হচ্ছে।

বর্তমানে এবতেদায়ী থেকে দাখিল স্তর পর্যন্ত পাঠদান চলছে মাদ্রাসাটিতে। এখানে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৫৯২ জন। এর মধ্যে এবতেদায়ী শাখায় ১৬২ জন এবং দাখিল শাখায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক ও কর্মচারীর অনুমোদিত পদ ২৬টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৯ জন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পুরোনো টিনশেড ভবনের বিভিন্ন স্থানে মরিচা পড়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং বেঞ্চ ভিজে যায়। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা রক্ষায় বেঞ্চ সরিয়ে বসতে হয়। এছাড়া গ্রীষ্মকালে টিনশেড কক্ষ অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মারুফ হাসান বলে, “বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। অনেক সময় বই-খাতা ভিজে যায়। গরমের সময় ক্লাস করাও খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে।”

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী তাসলিমা খাতুন জানায়, “প্রচণ্ড গরমে ক্লাস করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভালো ভবন হলে পড়াশোনা আরও স্বাভাবিকভাবে করা যেত।”

তবে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শিক্ষার মান ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবছর দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করছে মাদ্রাসাটি। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগী আব্দুল মজিদ সর্দার বলেন, “এটি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।”

মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আয়ুব আলী বলেন, “প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কোনো পাকা ভবন নেই। শিক্ষকদের বসারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। একটি চারতলা ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।”

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত মাদ্রাসাটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ভবন নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।