০১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা: ২৪ ঘণ্টার প্রশাসনিক শূন্যতা ও রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬
  • ৫৩২

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিদায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান নিয়ে এই আইনি ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টার পর শেষ হওয়ার কথা। অন্যদিকে, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিজেপি জোট ঘোষণা করেছে যে, তারা রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর পুণ্য লগ্ন অর্থাৎ আগামী ৯ মে শপথ গ্রহণ করবে। এই দুই তারিখের মাঝখানের ২৪ ঘণ্টা সময়কাল নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কোনো সরকার বা মন্ত্রিসভা ছাড়া এই সময়টিতে রাজ্যে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত নির্বাচনের ফলাফলের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত ‘কেয়ারটেকার’ বা অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এবারের নির্বাচনে পরাজয়ের পরও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই অনড় অবস্থান সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

সংবিধানের **১৭২ অনুচ্ছেদ** অনুযায়ী, সভার মেয়াদ শেষ হলে মন্ত্রিসভার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হয়ে যায়। প্রবীণ আইনজীবী **হরিশ সালভে** এই বিষয়ে মত দিয়েছেন যে:

রাজ্যপাল চাইলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে পারেন।
* প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাকে ‘কেয়ারটেকার’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকার অনুরোধ করা যেতে পারে।
* যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এই স্বল্প সময়ের জন্য রাজ্যে সাময়িকভাবে **রাষ্ট্রপতি শাসন** জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন ২৯৩টি আসনের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের কাছে হস্তান্তর করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নরেন্দ্র মোদি সমর্থিত বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে ৯ মে শপথ গ্রহণের আগে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়টি রাজ্যপাল কীভাবে সামাল দেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

রাজ্যজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—আগামী ২৪ ঘণ্টা পশ্চিমবঙ্গ কি কোনো নির্বাচিত সরকার ছাড়াই চলবে, নাকি রাজভবনের হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি শাসনের পথে হাঁটবে রাজ্য?

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক অনিশ্চয়তা: ২৪ ঘণ্টার প্রশাসনিক শূন্যতা ও রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা

আপডেট: ১০:১৪:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিদায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান নিয়ে এই আইনি ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদ বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১২টার পর শেষ হওয়ার কথা। অন্যদিকে, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিজেপি জোট ঘোষণা করেছে যে, তারা রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর পুণ্য লগ্ন অর্থাৎ আগামী ৯ মে শপথ গ্রহণ করবে। এই দুই তারিখের মাঝখানের ২৪ ঘণ্টা সময়কাল নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কোনো সরকার বা মন্ত্রিসভা ছাড়া এই সময়টিতে রাজ্যে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত নির্বাচনের ফলাফলের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত ‘কেয়ারটেকার’ বা অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এবারের নির্বাচনে পরাজয়ের পরও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই অনড় অবস্থান সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

সংবিধানের **১৭২ অনুচ্ছেদ** অনুযায়ী, সভার মেয়াদ শেষ হলে মন্ত্রিসভার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত হয়ে যায়। প্রবীণ আইনজীবী **হরিশ সালভে** এই বিষয়ে মত দিয়েছেন যে:

রাজ্যপাল চাইলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে পারেন।
* প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তাকে ‘কেয়ারটেকার’ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থাকার অনুরোধ করা যেতে পারে।
* যদি তা সম্ভব না হয়, তবে এই স্বল্প সময়ের জন্য রাজ্যে সাময়িকভাবে **রাষ্ট্রপতি শাসন** জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন ২৯৩টি আসনের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের কাছে হস্তান্তর করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে নরেন্দ্র মোদি সমর্থিত বিজেপিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তবে ৯ মে শপথ গ্রহণের আগে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়টি রাজ্যপাল কীভাবে সামাল দেবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

রাজ্যজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—আগামী ২৪ ঘণ্টা পশ্চিমবঙ্গ কি কোনো নির্বাচিত সরকার ছাড়াই চলবে, নাকি রাজভবনের হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপতি শাসনের পথে হাঁটবে রাজ্য?