০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে আটকে ১৫ বাংলাদেশিসহ ২৫ নাবিক, ভিসা জটিলতায় দেশে ফেরা অনিশ্চিত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজে আটকে পড়েছেন ১৫ জন বাংলাদেশি নাবিকসহ মোট ২৫ জন ক্রু সদস্য। যুদ্ধাবস্থার ঝুঁকির পাশাপাশি এখন নতুন করে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে দুবাইয়ের ভিসা জটিলতা, যার কারণে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তারা দেশে ফিরতে পারছেন না।

আটকে পড়া নাবিকদের একজন, বাংলাদেশি মেরিনার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ভিডিও বার্তায় জানান, গত দুই মাস ধরে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জাহাজে থাকা ২৫ জন ক্রুর মধ্যে রয়েছেন ১৫ জন বাংলাদেশি, ৮ জন ফিলিপিনো এবং ২ জন ভারতীয় নাবিক।

তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও তারা দায়িত্ব পালন করছেন, তবে মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা জাহাজে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জাহিদ হোসেন আরও জানান, অনেক নাবিকের চুক্তির মেয়াদ (Contract Period) শেষ হয়ে গেছে। তবে কোম্পানি চাইলেও দুবাইয়ের ভিসা জটিলতার কারণে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে পারছে না। সাধারণত এই অঞ্চলে দুবাইই মেরিনারদের সাইন-অন (জাহাজে ওঠা) এবং সাইন-অফ (জাহাজ থেকে নামা) এর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তবে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একই জাহাজে থাকা ভারতীয় ও ফিলিপিনো নাবিকরা কোনো সমস্যায় না পড়লেও বাংলাদেশি নাবিকরা দেশে ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

আটকে পড়া নাবিকরা জানিয়েছেন, তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগে আছেন এবং পরিবারের সদস্যরাও গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। জাহিদ হোসেন বলেন, “আমাদের পরিবার-পরিজন চরম দুশ্চিন্তায় আছে। সরকার যদি দ্রুত ভিসা জটিলতা সমাধানে উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারব।”

এদিকে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সি-ফেয়ারার্স ইউনিয়ন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তবে নাবিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে দ্রুত সরকারি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি উঠেছে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে আটকে ১৫ বাংলাদেশিসহ ২৫ নাবিক, ভিসা জটিলতায় দেশে ফেরা অনিশ্চিত

আপডেট: ১২:০৮:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজে আটকে পড়েছেন ১৫ জন বাংলাদেশি নাবিকসহ মোট ২৫ জন ক্রু সদস্য। যুদ্ধাবস্থার ঝুঁকির পাশাপাশি এখন নতুন করে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে দুবাইয়ের ভিসা জটিলতা, যার কারণে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও তারা দেশে ফিরতে পারছেন না।

আটকে পড়া নাবিকদের একজন, বাংলাদেশি মেরিনার মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন ভিডিও বার্তায় জানান, গত দুই মাস ধরে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। জাহাজে থাকা ২৫ জন ক্রুর মধ্যে রয়েছেন ১৫ জন বাংলাদেশি, ৮ জন ফিলিপিনো এবং ২ জন ভারতীয় নাবিক।

তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও তারা দায়িত্ব পালন করছেন, তবে মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তারা জাহাজে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জাহিদ হোসেন আরও জানান, অনেক নাবিকের চুক্তির মেয়াদ (Contract Period) শেষ হয়ে গেছে। তবে কোম্পানি চাইলেও দুবাইয়ের ভিসা জটিলতার কারণে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে পারছে না। সাধারণত এই অঞ্চলে দুবাইই মেরিনারদের সাইন-অন (জাহাজে ওঠা) এবং সাইন-অফ (জাহাজ থেকে নামা) এর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তবে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একই জাহাজে থাকা ভারতীয় ও ফিলিপিনো নাবিকরা কোনো সমস্যায় না পড়লেও বাংলাদেশি নাবিকরা দেশে ফিরতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

আটকে পড়া নাবিকরা জানিয়েছেন, তারা শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগে আছেন এবং পরিবারের সদস্যরাও গভীর উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। জাহিদ হোসেন বলেন, “আমাদের পরিবার-পরিজন চরম দুশ্চিন্তায় আছে। সরকার যদি দ্রুত ভিসা জটিলতা সমাধানে উদ্যোগ নেয়, তাহলে আমরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারব।”

এদিকে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং সি-ফেয়ারার্স ইউনিয়ন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে। তবে নাবিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে দ্রুত সরকারি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের দাবি উঠেছে।