০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

অ্যাগ্রো প্রজেক্টে ৪০০ কোটি টাকা প্রতারণা: সিআইডির অভিযানে চক্রের এক সদস্য গ্রেপ্তার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৫৩১

অ্যাগ্রো প্রজেক্টে বিনিয়োগের নামে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩)। তার বাড়ি ভোলা জেলার শশীভোষণ থানার জাহানপুর এলাকায়। ঢাকার সবুজবাগ থানার বাসাবো এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, “নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাগ্রো প্রজেক্ট” নামে একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করে চক্রটি। সেখানে বিনিয়োগকারীদের প্রতি ১ লাখ টাকায় মাসে ৩ হাজার টাকা লাভ এবং ৩৩ মাসে মূলধন দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখানো হতো।

এই প্রলোভনে পড়ে ২০২৩ সালের মে মাসে বাদী ও তার তিন বান্ধবী ভাটারা এলাকার কুড়িল চৌরাস্তা সংলগ্ন অফিসে গিয়ে প্রথমে ৭ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ৫ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করেন। পরে আস্থা অর্জনের জন্য কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।

এরপর একই বছরের জুলাই মাসে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়। পরে প্লট কেনার নামে চাপ দিয়ে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও পরবর্তীতে অফিস বন্ধ করে চক্রটি আত্মগোপনে চলে যায়।

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটির চারটি ব্যাংক হিসাব ও সার্ভারের তথ্য বিশ্লেষণে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রেপ্তার ওবায়েদুল্লাহর ব্যক্তিগত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ভুক্তভোগী ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন।

মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রাখে। পরে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও সাভার থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হবে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

অ্যাগ্রো প্রজেক্টে ৪০০ কোটি টাকা প্রতারণা: সিআইডির অভিযানে চক্রের এক সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট: ১০:৪০:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

অ্যাগ্রো প্রজেক্টে বিনিয়োগের নামে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মঙ্গলবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. ওবায়েদুল্লাহ (৩৩)। তার বাড়ি ভোলা জেলার শশীভোষণ থানার জাহানপুর এলাকায়। ঢাকার সবুজবাগ থানার বাসাবো এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, “নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাগ্রো প্রজেক্ট” নামে একটি ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্প চালু করে চক্রটি। সেখানে বিনিয়োগকারীদের প্রতি ১ লাখ টাকায় মাসে ৩ হাজার টাকা লাভ এবং ৩৩ মাসে মূলধন দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখানো হতো।

এই প্রলোভনে পড়ে ২০২৩ সালের মে মাসে বাদী ও তার তিন বান্ধবী ভাটারা এলাকার কুড়িল চৌরাস্তা সংলগ্ন অফিসে গিয়ে প্রথমে ৭ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ৫ লাখ টাকা করে বিনিয়োগ করেন। পরে আস্থা অর্জনের জন্য কিছু অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।

এরপর একই বছরের জুলাই মাসে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়। পরে প্লট কেনার নামে চাপ দিয়ে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও পরবর্তীতে অফিস বন্ধ করে চক্রটি আত্মগোপনে চলে যায়।

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটির চারটি ব্যাংক হিসাব ও সার্ভারের তথ্য বিশ্লেষণে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া গ্রেপ্তার ওবায়েদুল্লাহর ব্যক্তিগত ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ভুক্তভোগী ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন।

মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রাখে। পরে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও সাভার থানায় একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হবে।