০৬:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

বাঁচতে ইচ্ছে করেনি, তাই জীবনের ইতি টানলাম’—চিরকুট লিখে ওপারে চলে গেলেন শার্শা লামিয়া

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৫৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • ৫৩২

বাবার সঙ্গে শেষবার একটু কথা বলার খুব ইচ্ছে ছিল তার, কিন্তু সেই সুযোগ আর মেলেনি। শেষ পর্যন্ত সেই আক্ষেপ আর একরাশ অভিমান নিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া। রোববার বিকেলে যশোরের শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজ বাগান এলাকায় নিজ ঘর থেকে এই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আত্মহননের আগে নিজের হাতে লেখা এক আবেগঘন চিরকুটে সে তার নিঃসঙ্গতা ও বাবার প্রতি জমে থাকা ক্ষোভের কথা লিখে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামিয়ার বাবা বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। রোববার সকালে তার মা শিখা আক্তার শিরিন তাকে বাড়িতে একা রেখে বিশেষ প্রয়োজনে যশোরে যান। দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে স্বজনরা দরজা ভেঙে দেখেন, ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে জীবনের ইতি টেনেছে লামিয়া।?
লামিয়ার মরদেহের পাশেই পাওয়া যায় তার নিজের হাতে লেখা একটি চিরকুট। সেখানে সে তার মা ও নানার প্রতি ভালোবাসা জানালেও বাবার প্রতি ঝরিয়েছে বুকভরা অভিমান। চিরকুটে সে লেখে:
*”আমার আব্বু… তিনি কেমন বাবা, আমার সঙ্গে কখনো কথা বলেননি। খুব ইচ্ছে ছিল শেষবার তার সঙ্গে কথা বলবো, কিন্তু তা আর হলো না। তিনি যদি আমাকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন, তাহলে যেন কখনো কাঁদেন না—কারণ আমি তাকে খুব ভালোবাসি।”*

সে আরও লিখেছে যে, তার এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য কেউ দায়ী নয়, বরং বেঁচে থাকার ইচ্ছে ফুরিয়ে যাওয়ায় সে এই পথ বেছে নিয়েছে। নিজেকে ‘ভালো মেয়ে’ হতে না পারার আক্ষেপও ঝরে পড়েছে তার লেখনীতে।
কিশোরী লামিয়ার এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবার স্নেহ আর সান্নিধ্যের অভাবে একটি প্রাণ কতটা নিঃস্ব হতে পারে, লামিয়ার চিরকুট যেন তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। রোববার রাতেই জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করলে বা আত্মঘাতী চিন্তা মাথায় এলে দয়া করে প্রিয়জন বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন। কোনো সমস্যাই জীবনের চেয়ে বড় নয়।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে সোনা, ডলার ও ওষুধ চোরাচালানের ‘ডন’ ইকরামুলের বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা

বাঁচতে ইচ্ছে করেনি, তাই জীবনের ইতি টানলাম’—চিরকুট লিখে ওপারে চলে গেলেন শার্শা লামিয়া

আপডেট: ০৮:৫৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

বাবার সঙ্গে শেষবার একটু কথা বলার খুব ইচ্ছে ছিল তার, কিন্তু সেই সুযোগ আর মেলেনি। শেষ পর্যন্ত সেই আক্ষেপ আর একরাশ অভিমান নিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালো সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া। রোববার বিকেলে যশোরের শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজ বাগান এলাকায় নিজ ঘর থেকে এই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আত্মহননের আগে নিজের হাতে লেখা এক আবেগঘন চিরকুটে সে তার নিঃসঙ্গতা ও বাবার প্রতি জমে থাকা ক্ষোভের কথা লিখে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামিয়ার বাবা বর্তমানে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। রোববার সকালে তার মা শিখা আক্তার শিরিন তাকে বাড়িতে একা রেখে বিশেষ প্রয়োজনে যশোরে যান। দীর্ঘক্ষণ ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে স্বজনরা দরজা ভেঙে দেখেন, ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে জীবনের ইতি টেনেছে লামিয়া।?
লামিয়ার মরদেহের পাশেই পাওয়া যায় তার নিজের হাতে লেখা একটি চিরকুট। সেখানে সে তার মা ও নানার প্রতি ভালোবাসা জানালেও বাবার প্রতি ঝরিয়েছে বুকভরা অভিমান। চিরকুটে সে লেখে:
*”আমার আব্বু… তিনি কেমন বাবা, আমার সঙ্গে কখনো কথা বলেননি। খুব ইচ্ছে ছিল শেষবার তার সঙ্গে কথা বলবো, কিন্তু তা আর হলো না। তিনি যদি আমাকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন, তাহলে যেন কখনো কাঁদেন না—কারণ আমি তাকে খুব ভালোবাসি।”*

সে আরও লিখেছে যে, তার এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য কেউ দায়ী নয়, বরং বেঁচে থাকার ইচ্ছে ফুরিয়ে যাওয়ায় সে এই পথ বেছে নিয়েছে। নিজেকে ‘ভালো মেয়ে’ হতে না পারার আক্ষেপও ঝরে পড়েছে তার লেখনীতে।
কিশোরী লামিয়ার এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাবার স্নেহ আর সান্নিধ্যের অভাবে একটি প্রাণ কতটা নিঃস্ব হতে পারে, লামিয়ার চিরকুট যেন তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ। রোববার রাতেই জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করলে বা আত্মঘাতী চিন্তা মাথায় এলে দয়া করে প্রিয়জন বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন। কোনো সমস্যাই জীবনের চেয়ে বড় নয়।