২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রংপুরে সংঘটিত বহুল আলোচিত আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষিত এ রায়ে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ এবং ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর। এছাড়া মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলায় দফতর সম্পাদক বাবুল হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল এবং সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া-সহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভিডিওতে তাকে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, এবং এরপর গুলির ঘটনায় তিনি নিহত হন।
এই হত্যাকাণ্ড কোটা সংস্কার আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ঘটনার পরপরই দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
পরদিন নিহতের বাবা মকবুল হোসেন প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।
সবশেষে আজ ঘোষিত রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড প্রদানসহ অন্যান্যদের সাজা নির্ধারণের মাধ্যমে দেশের বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। এই রায়কে অনেকেই ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।



















