০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৩৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৯০

গত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের তারিখ আজ ঘোষণা হতে পারে। জুলাই আন্দোলনের সময়কার এই মামলাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রথম কোনো হত্যা মামলার রায় হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে যাচ্ছে।
গতকাল, বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
টানা পাঁচ দিন প্রসিকিউশন পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের পর বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার দুই আসামি—শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি দুই আসামিকে নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আজ (বৃহস্পতিবার) প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমরা জবাব দেব। এরপর প্রধান প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল তাদের চূড়ান্ত বক্তব্য দেবেন। তারপর ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবেন।”
মামলার বিবরণ
এই ঐতিহাসিক মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের পিতা এবং অন্যান্য স্বজনহারা পরিবার।
স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। পরে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বর্তমানে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর একটিতে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে, অন্যটি রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার ও এর দলীয় ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ চলছে।

সর্বাধিক পঠিত

Nn

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা হতে পারে আজ

আপডেট: ১১:৩৬:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

গত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়ের তারিখ আজ ঘোষণা হতে পারে। জুলাই আন্দোলনের সময়কার এই মামলাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতির বিরুদ্ধে প্রথম কোনো হত্যা মামলার রায় হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে যাচ্ছে।
গতকাল, বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।
টানা পাঁচ দিন প্রসিকিউশন পক্ষের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের পর বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার দুই আসামি—শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি দুই আসামিকে নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আজ (বৃহস্পতিবার) প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমরা জবাব দেব। এরপর প্রধান প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল তাদের চূড়ান্ত বক্তব্য দেবেন। তারপর ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করবেন।”
মামলার বিবরণ
এই ঐতিহাসিক মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের পিতা এবং অন্যান্য স্বজনহারা পরিবার।
স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। পরে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বর্তমানে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর একটিতে আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে গুম-খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে, অন্যটি রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার ও এর দলীয় ক্যাডারদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ ওঠে। বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব অপরাধের বিচার কাজ চলছে।