০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

বেনাপোলে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ডেক্সপ্রটিন সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রির অভিযোগ, ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫০৩

বেনাপোলে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ডেক্সপ্রটিন সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রির অভিযোগ, ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ

বেনাপোল প্রতিনিধি:
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় সারাদেশে নানা উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চললেও যশোরের বেনাপোলে ওষুধের দোকানগুলোতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ডেক্সপ্রটিন সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের কয়েকটি ফার্মেসিতে সহজেই এসব ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে তরুণদের একটি অংশ ওষুধের অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়ছে।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে বেনাপোলের হাসান ফার্মেসি, যার স্বত্বাধিকারী মোঃ হজরত আলী মাস্টার, নিউ মেডিসিন হাউস, যার স্বত্বাধিকারী মোঃ খালেক মাস্টার, খালেক মাস্টার মেডিকেল এবং রাতুল মেডিকেল হল। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বত্বাধিকারী ও ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তমাল ও মোঃ সালাউদ্দিন। এসব ফার্মেসিতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ডেক্সপ্রটিন সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. বারির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ধরনের ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করা নিষেধ।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘুমের ওষুধ ও নির্দিষ্ট কিছু সিরাপ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করলে শারীরিক ও মানসিক নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। নিয়মিত বা অতিরিক্ত সেবনে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত তন্দ্রা, মাথা ঘোরা এবং আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয়ে যাওয়া, অজ্ঞান হওয়া, কোমা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে। তবে ডেক্সপ্রটিন সিরাপের সুনির্দিষ্ট উপাদান যাচাই ছাড়া এর নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

সচেতন মহলের মতে, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি ওষুধের অপব্যবহার বন্ধেও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রির অনুমতি নেই—এমন ওষুধের অবাধ বিক্রি বন্ধে ফার্মেসিগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বেনাপোলের সব ফার্মেসিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ডেক্সপ্রটিন সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রির অভিযোগ, ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ

বেনাপোলে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ডেক্সপ্রটিন সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রির অভিযোগ, ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ

আপডেট: ০৭:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

বেনাপোলে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ডেক্সপ্রটিন সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রির অভিযোগ, ঝুঁকিতে তরুণ সমাজ

বেনাপোল প্রতিনিধি:
মাদকের ভয়াল থাবা থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় সারাদেশে নানা উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চললেও যশোরের বেনাপোলে ওষুধের দোকানগুলোতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ডেক্সপ্রটিন সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের কয়েকটি ফার্মেসিতে সহজেই এসব ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে তরুণদের একটি অংশ ওষুধের অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়ছে।

অভিযোগের তালিকায় রয়েছে বেনাপোলের হাসান ফার্মেসি, যার স্বত্বাধিকারী মোঃ হজরত আলী মাস্টার, নিউ মেডিসিন হাউস, যার স্বত্বাধিকারী মোঃ খালেক মাস্টার, খালেক মাস্টার মেডিকেল এবং রাতুল মেডিকেল হল। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বত্বাধিকারী ও ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তমাল ও মোঃ সালাউদ্দিন। এসব ফার্মেসিতে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই ডেক্সপ্রটিন সিরাপ ও ঘুমের ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. বারির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ধরনের ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করা নিষেধ।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘুমের ওষুধ ও নির্দিষ্ট কিছু সিরাপ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করলে শারীরিক ও মানসিক নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। নিয়মিত বা অতিরিক্ত সেবনে স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত তন্দ্রা, মাথা ঘোরা এবং আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর হয়ে যাওয়া, অজ্ঞান হওয়া, কোমা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও রয়েছে। তবে ডেক্সপ্রটিন সিরাপের সুনির্দিষ্ট উপাদান যাচাই ছাড়া এর নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

সচেতন মহলের মতে, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি ওষুধের অপব্যবহার বন্ধেও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রির অনুমতি নেই—এমন ওষুধের অবাধ বিক্রি বন্ধে ফার্মেসিগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি জরুরি।
এলাকাবাসীর দাবি, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বেনাপোলের সব ফার্মেসিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ফার্মেসির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।