০৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

শাহজাহানপুরে রাজউকের নকশা অমান্য করে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, অর্থ লেনদেনের দাবি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
  • ৫১২

রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ গলিতে রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে প্রায় ৬ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভবনটির সেটব্যাক, ক্যান্টিলিভার, বারান্দা সম্প্রসারণসহ নির্মাণবিধির একাধিক শর্ত মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তাকে অর্থ দেওয়ার দাবিও উঠে এসেছে একটি তথ্যপত্রে।

অন্যদিকে, এসব অনিয়মের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর অভিযোগকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে ভবনমালিকের পক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে রাজউকের অনুমোদন ও তদারকি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে রাজউকের অনুমোদন নিয়ে শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ গলিতে প্রায় ৬ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। ভবনের জমির পরিমাণ, অবস্থান, উচ্চতা ও আয়তন সরেজমিন পরিমাপ করে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।

ক্যান্টিলিভার ও বারান্দা সম্প্রসারণ নিয়ে প্রশ্ন

ভবন-সংক্রান্ত তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনটির চারপাশে প্রয়োজনীয় সেটব্যাক বা খালি জায়গা রাখা হলেও ওপরের তলাগুলোতে ক্যান্টিলিভার ও বারান্দা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবনের আয়তন বাড়ানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্যপত্র অনুযায়ী, ভবনটি দুই ইউনিটবিশিষ্ট। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন প্রায় ১ হাজার ১০০ বর্গফুট। প্রতি বর্গফুটের বিক্রয়মূল্য ১০ হাজার ৫০০ টাকা ধরে প্রতিটি ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ভবনটি কোনো ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নয়, মালিক নিজেই বিক্রি করছেন বলে তথ্যপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির দাবি, অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত ক্যান্টিলিভার ও তলা নির্মাণে সহযোগিতা পেতে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের পরিমাণ, কারা অর্থ নিয়েছেন এবং দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাজউকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

ভবনমালিকের বক্তব্যসংবলিত একটি তথ্যপত্রে রাজউকের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময় অর্থ দেওয়ার দাবি উঠে এসেছে। সেখানে ভবনমালিকের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হুবহু ভবন নির্মাণ বাস্তবে সম্ভব হয় না। এ কারণে কিছু পরিবর্তন করতে হয়।

এ ছাড়া দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে বসবাস শুরু করার পরামর্শ পাওয়ার কথাও তথ্যপত্রে উল্লেখ রয়েছে। ভবনে লোকজন বসবাস শুরু করলে সেটি ভেঙে ফেলার ঝুঁকি থাকবে না বলেও ভবনমালিকের বক্তব্য হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, রাজউকের কোনো কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে নকশাবহির্ভূত নির্মাণে সহযোগিতা করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ

ভবনটির নির্মাণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এতে অনুমোদিত নকশা, জমির প্রকৃত পরিমাণ, ভবনের উচ্চতা, ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), রাস্তার প্রস্থ, সেটব্যাক ও ক্যান্টিলিভার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে ভবনের সামনের রাস্তার প্রস্থ প্রায় ২০ ফুট এবং পাশের রাস্তার প্রস্থ প্রায় ১৫ ফুট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় ভবনটির অনুমোদিত উচ্চতা ও নির্মাণের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজউকের জোন ৬/১-এর ভবন পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এখনো সরেজমিন পরিদর্শন, নির্মাণের বৈধতা যাচাই কিংবা দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের পর ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ

রাজউকে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পর অভিযোগকারীদের সঙ্গে ভবনমালিকের পক্ষের কথিত ফোনালাপকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ভবনটির মালিক সাংবাদিক তোহিদুল। অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তিনি ফোন করে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ফোনালাপে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভবনমালিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ফোনালাপ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সব মিলিয়ে শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ গলির ভবনটি ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রায় ৬ কাঠা জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, অতিরিক্ত ক্যান্টিলিভার ও বারান্দা সম্প্রসারণের অনুমতি ছিল কি না এবং রাজউকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব বিষয় তদন্তের দাবি রাখে।

এ জন্য ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদনের নথি, পরিদর্শন প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি ভবনমালিক ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নগর পরিকল্পনাসংশ্লিষ্টদের মতে, অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি না মেনে ভবন নির্মাণ করা হলে তা ভবনের নিরাপত্তা এবং আশপাশের মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে রাজউকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে দেশব্যাপী শুরু ‘নতুন কুঁড়ি সিজন-২’,

শাহজাহানপুরে রাজউকের নকশা অমান্য করে ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ, অর্থ লেনদেনের দাবি

আপডেট: ০৫:০৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ গলিতে রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে প্রায় ৬ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভবনটির সেটব্যাক, ক্যান্টিলিভার, বারান্দা সম্প্রসারণসহ নির্মাণবিধির একাধিক শর্ত মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ভবন নির্মাণে রাজউকের কয়েকজন কর্মকর্তাকে অর্থ দেওয়ার দাবিও উঠে এসেছে একটি তথ্যপত্রে।

অন্যদিকে, এসব অনিয়মের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর অভিযোগকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে ভবনমালিকের পক্ষের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে রাজউকের অনুমোদন ও তদারকি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে রাজউকের অনুমোদন নিয়ে শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ গলিতে প্রায় ৬ কাঠা জমির ওপর ১০ তলা ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তব নির্মাণের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। ভবনের জমির পরিমাণ, অবস্থান, উচ্চতা ও আয়তন সরেজমিন পরিমাপ করে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।

ক্যান্টিলিভার ও বারান্দা সম্প্রসারণ নিয়ে প্রশ্ন

ভবন-সংক্রান্ত তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনটির চারপাশে প্রয়োজনীয় সেটব্যাক বা খালি জায়গা রাখা হলেও ওপরের তলাগুলোতে ক্যান্টিলিভার ও বারান্দা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবনের আয়তন বাড়ানো হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্যপত্র অনুযায়ী, ভবনটি দুই ইউনিটবিশিষ্ট। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন প্রায় ১ হাজার ১০০ বর্গফুট। প্রতি বর্গফুটের বিক্রয়মূল্য ১০ হাজার ৫০০ টাকা ধরে প্রতিটি ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ভবনটি কোনো ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নয়, মালিক নিজেই বিক্রি করছেন বলে তথ্যপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এদিকে, নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির দাবি, অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত ক্যান্টিলিভার ও তলা নির্মাণে সহযোগিতা পেতে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে অর্থ দেওয়া হয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের পরিমাণ, কারা অর্থ নিয়েছেন এবং দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাজউকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

ভবনমালিকের বক্তব্যসংবলিত একটি তথ্যপত্রে রাজউকের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের সময় অর্থ দেওয়ার দাবি উঠে এসেছে। সেখানে ভবনমালিকের বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হুবহু ভবন নির্মাণ বাস্তবে সম্ভব হয় না। এ কারণে কিছু পরিবর্তন করতে হয়।

এ ছাড়া দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে বসবাস শুরু করার পরামর্শ পাওয়ার কথাও তথ্যপত্রে উল্লেখ রয়েছে। ভবনে লোকজন বসবাস শুরু করলে সেটি ভেঙে ফেলার ঝুঁকি থাকবে না বলেও ভবনমালিকের বক্তব্য হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, রাজউকের কোনো কর্মকর্তা অর্থের বিনিময়ে নকশাবহির্ভূত নির্মাণে সহযোগিতা করে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজউক চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ

ভবনটির নির্মাণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে রাজউক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এতে অনুমোদিত নকশা, জমির প্রকৃত পরিমাণ, ভবনের উচ্চতা, ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর), রাস্তার প্রস্থ, সেটব্যাক ও ক্যান্টিলিভার সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে ভবনের সামনের রাস্তার প্রস্থ প্রায় ২০ ফুট এবং পাশের রাস্তার প্রস্থ প্রায় ১৫ ফুট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় ভবনটির অনুমোদিত উচ্চতা ও নির্মাণের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজউকের জোন ৬/১-এর ভবন পরিদর্শক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এখনো সরেজমিন পরিদর্শন, নির্মাণের বৈধতা যাচাই কিংবা দৃশ্যমান কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অভিযোগের পর ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ

রাজউকে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পর অভিযোগকারীদের সঙ্গে ভবনমালিকের পক্ষের কথিত ফোনালাপকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ভবনটির মালিক সাংবাদিক তোহিদুল। অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তিনি ফোন করে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ফোনালাপে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভবনমালিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ফোনালাপ ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সব মিলিয়ে শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ গলির ভবনটি ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রায় ৬ কাঠা জমিতে ১০ তলা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, অতিরিক্ত ক্যান্টিলিভার ও বারান্দা সম্প্রসারণের অনুমতি ছিল কি না এবং রাজউকের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা কতটুকু—এসব বিষয় তদন্তের দাবি রাখে।

এ জন্য ভবনটির অনুমোদিত নকশা, নির্মাণ অনুমোদনের নথি, পরিদর্শন প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যক্রম পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি ভবনমালিক ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নগর পরিকল্পনাসংশ্লিষ্টদের মতে, অনুমোদিত নকশা ও নির্মাণবিধি না মেনে ভবন নির্মাণ করা হলে তা ভবনের নিরাপত্তা এবং আশপাশের মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগে ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে রাজউকের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।