যশোরের শার্শা উপজেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৬০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ইউএনও ফজলে ওয়াহিদ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। উপজেলার প্রতিটি এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এ ছাড়া বসতবাড়ি ও আশপাশের আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান ইউএনও। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত তদারকি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফজলে ওয়াহিদ বলেন, দেশ বর্তমানে ডেঙ্গুর সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ কিছুটা বেশি।
তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ জন স্কাউট এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ১২ জন স্বেচ্ছাসেবীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বেনাপোল, শার্শা, নাভারণ ও বাগআঁচড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করেও সচেতনতা তৈরির কাজ চলছে।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইতিমধ্যে এক হাজার স্যালাইন ও ১০০টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান ইউএনও।
তিনি আরও বলেন, কচুরিপানা পরিষ্কার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারি বরাদ্দ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে বরাদ্দ আসার আগেই রোগীরা যাতে যথাযথ চিকিৎসাসেবা পান, সে জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাসামগ্রী বৃহস্পতিবার দুপুর বা বিকেলের মধ্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিভিন্ন এলাকায় কচুরিপানা অপসারণের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, নদী রক্ষা কমিটির সভায় অভয়নগর বা মনিরামপুরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রযুক্তির সহায়তায় কচুরিপানা পরিষ্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোগটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপজেলাতেও তা চালুর চিন্তা করা হচ্ছে।
হাওর এলাকায় বিস্তীর্ণ জলাভূমির কারণে ওষুধ ছিটিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ কারণে মশক নিধনের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হাওরের আশপাশের বসতিগুলোতে স্বেচ্ছাসেবী দল পাঠিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপজেলা প্রশাসনের আশা, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডেঙ্গুর বিস্তার কমিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব হবে।




















