১০:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ভৈরবের ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৩৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৭

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ীর বসতবাড়ি এবং দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা না নেওয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর তথ্য সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় পুলিশি সহায়তা না দেওয়ার বিনিময়ে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগটির সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

অভিযোগ ও লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ওসি মো. মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ০১৭১২৬৩৭৪১৮-এ ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। অর্থ পাঠানোর সঙ্গে প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে। লেনদেনের ট্রানজ্যাকশন আইডি হিসেবে ডিজে৩২সিপিবি৪০০ (DJ32CPB400) উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং অর্থটি ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে বিকাশের আনুষ্ঠানিক লেনদেনের বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই প্রয়োজন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমানের দখলে থাকা মনির কন্ট্রাক্টরের বাড়ি ও দোকানের জায়গায় হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়া ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে বসতঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার সময় তাঁরা মোবাইল ফোনে ভৈরব থানায় যোগাযোগ করে পুলিশি সহায়তা চান। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয়। তাঁদের আরও অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও হামলা ও লুটপাট ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। তবে পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময়, সেখানে উপস্থিত সদস্যদের ভূমিকা এবং কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়ার অভিযোগ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর তাঁরা বিচার চেয়ে একাধিকবার ভৈরব থানায় যান। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, প্রায় এক সপ্তাহ থানায় যোগাযোগ করেও মামলা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের আদালতে গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। আদালতে দায়ের করা মামলার নম্বর, আরজি এবং পরবর্তী আদেশ যাচাই করা হলে ঘটনার আইনি অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে।

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু মুছা শেখ বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন এবং ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে টাকা লেনদেনের একটি তথ্য সামনে এসেছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে দাপ্তরিক অভিযোগ পাওয়া গেলে বিকাশের কল সেন্টার থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ সংগ্রহ করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। তদন্তে ওসির নম্বরে অবৈধভাবে ঘুষের অর্থ লেনদেনের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ও দোকানপাটে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ এবং একই ঘটনায় থানার ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে অর্থ লেনদেনের তথ্য—দুটি বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

লেনদেনের উৎস ও উদ্দেশ্য, ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা, থানায় অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আদালতে দায়ের করা মামলার নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।

সর্বাধিক পঠিত

ভৈরবের ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

ভৈরবের ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট: ১০:৩৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ীর বসতবাড়ি এবং দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা না নেওয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর তথ্য সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় পুলিশি সহায়তা না দেওয়ার বিনিময়ে ওই অর্থ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগটির সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

অভিযোগ ও লেনদেনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ওসি মো. মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর ০১৭১২৬৩৭৪১৮-এ ৩০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। অর্থ পাঠানোর সঙ্গে প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে। লেনদেনের ট্রানজ্যাকশন আইডি হিসেবে ডিজে৩২সিপিবি৪০০ (DJ32CPB400) উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এই লেনদেনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং অর্থটি ঘুষ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে বিকাশের আনুষ্ঠানিক লেনদেনের বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই প্রয়োজন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমানের দখলে থাকা মনির কন্ট্রাক্টরের বাড়ি ও দোকানের জায়গায় হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়া ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে বসতঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার সময় তাঁরা মোবাইল ফোনে ভৈরব থানায় যোগাযোগ করে পুলিশি সহায়তা চান। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নেয়। তাঁদের আরও অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরও হামলা ও লুটপাট ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। তবে পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সময়, সেখানে উপস্থিত সদস্যদের ভূমিকা এবং কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্ট নথি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়ার অভিযোগ, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর তাঁরা বিচার চেয়ে একাধিকবার ভৈরব থানায় যান। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, প্রায় এক সপ্তাহ থানায় যোগাযোগ করেও মামলা করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জের আদালতে গিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে বাধ্য হন।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, হামলার ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। আদালতে দায়ের করা মামলার নম্বর, আরজি এবং পরবর্তী আদেশ যাচাই করা হলে ঘটনার আইনি অবস্থান সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন উঠেছে।

ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আবু মুছা শেখ বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন এবং ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে টাকা লেনদেনের একটি তথ্য সামনে এসেছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে দাপ্তরিক অভিযোগ পাওয়া গেলে বিকাশের কল সেন্টার থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য ও লেনদেনের বিবরণ সংগ্রহ করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। তদন্তে ওসির নম্বরে অবৈধভাবে ঘুষের অর্থ লেনদেনের সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ও দোকানপাটে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ এবং একই ঘটনায় থানার ওসির ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বরে অর্থ লেনদেনের তথ্য—দুটি বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

লেনদেনের উৎস ও উদ্দেশ্য, ঘটনার সময় পুলিশের ভূমিকা, থানায় অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আদালতে দায়ের করা মামলার নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষ।