১০:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

কাজ শেষের আগেই ১০ কোটি টাকার বিল পরিশোধ, ডিএনসিসির সড়কবাতি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৮

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সড়কবাতি স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই দুটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রোটেস্টার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১০ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আকরাম খান।

ডিএনসিসির নথি অনুযায়ী, গত ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার আগেই দুটি প্রকল্পের বিপরীতে মোট ১০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৩ হাজার ২১৮ টাকার বিলের ফাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করেন। আয়কর ও ভ্যাট বাবদ অর্থ কর্তনের পর নিট বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪৭ টাকা। এর মধ্যে অঞ্চল-৫-এর একটি প্রকল্পে কাজের ভৌত অগ্রগতি ছিল মাত্র ২৯ শতাংশ।

প্রোটেস্টার লিমিটেড ডিএনসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে সড়কবাতি স্থাপনের দুটি কাজ পেয়েছে। এ দুটি কাজের মোট চুক্তিমূল্য ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। কাজের অগ্রগতি, বিল পরিশোধ এবং দরপত্রের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আগে সফলভাবে সম্পন্ন করা কাজের অভিজ্ঞতা দেখাতে হতো। কিন্তু প্রোটেস্টার লিমিটেড দুটি দরপত্রেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) একটি কাজের সনদ জমা দেয়, যার বাস্তবায়ন তখনো চলমান ছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, রাসিকের ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ওই কাজটি শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ৩১ মে। কাজটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ ডিএনসিসির দরপত্রে অংশ নেওয়ার সময় কাজটি অসম্পন্ন ছিল।

এ অবস্থায় সম্পন্ন কাজের অভিজ্ঞতা হিসেবে ওই সনদ গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে ডিএনসিসির অন্য একটি সাধারণ কাজের সনদ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে জাহাঙ্গীর গেট এবং অঞ্চল-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন সড়কে বাতির খুঁটি ও স্মার্ট এলইডি লাইট সরবরাহের জন্য ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করে ডিএনসিসি। ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার এই দরপত্র আহ্বান করেন সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম।

দরপত্রে অংশ নেয় প্রোটেস্টার লিমিটেড, এস এস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং সালেক পাওয়ার লিমিটেড।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে পাঁচ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি গত ১০ বছরের মধ্যে একটি চুক্তির আওতায় অন্তত ১০ কোটি ৮ লাখ টাকার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রতি বছর ২৩৫টি ডেকোরেটিভ পোল বা সৌন্দর্যবর্ধক বাতির খুঁটি এবং ৩৯৫টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট সরবরাহ অথবা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকার শর্তও দেওয়া হয়েছিল।

প্রোটেস্টার লিমিটেডের জমা দেওয়া রাসিকের কাজের চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। ফলে দরপত্র জমা দেওয়ার সময় সেটি সম্পন্ন হওয়ার কথা নয়। এ কারণে দরপত্রের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অসম্পন্ন কাজের অভিজ্ঞতা সনদ গ্রহণের ঘটনায় সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০০৮ (পিপিআর) লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (পিপিএ) বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নির্দেশনা এবং দরদাতাদের জন্য প্রযোজ্য নির্দেশনার ১৫.১ (বি) ধারা অনুসরণের পরিবর্তে ডিএনসিসির ১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার একটি সাধারণ কাজের সনদ ব্যবহার করা হয়।

এ ক্ষেত্রে কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে ওই সনদ গ্রহণ করা হয়েছিল, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কীভাবে অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং পিপিএর নির্দেশনা কতটা অনুসরণ করা হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

সড়কবাতি প্রকল্পকে ঘিরে আরেকটি প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে চীন সফর নিয়ে। প্রকল্পের মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে ডিএনসিসি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ১০ কর্মকর্তার চীন সফরের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যসহ মোট ২২ জন ওই সফরে যান।

সরকারি প্রকল্পের মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সফরের প্রকৃত ব্যয় কত ছিল, কারা ব্যয় বহন করেছেন এবং সফরের সঙ্গে প্রকল্পের কী ধরনের কারিগরি বা প্রশাসনিক সম্পর্ক ছিল, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনটির প্রেক্ষাপটে আরও অভিযোগ উঠেছে, গত এক বছরে ডিএনসিসির ঠিকাদারি কাজের উল্লেখযোগ্য অংশ আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের প্রতিষ্ঠানের হাতে গেছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনকে গুমের ঘটনায় কিসমৎ হায়াতের স্বীকারোক্তির প্রসঙ্গও আলোচনায় এসেছে।

তবে এসব বিষয় আলাদা অভিযোগ ও ঘটনা। সড়কবাতি প্রকল্পের দরপত্র, বিল পরিশোধ কিংবা চীন সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পরিচয়ের সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা নির্ধারণে নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

ডিএনসিসির সড়কবাতি প্রকল্পে কাজের বাস্তব অগ্রগতির তুলনায় বিল পরিশোধের পরিমাণ, দরপত্রে অভিজ্ঞতার সনদ গ্রহণ এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ সফরের বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

বিশেষ করে প্রকল্পের বিল অনুমোদনকারী কর্মকর্তা, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি, কার্যাদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই, বিলের হিসাব নিরীক্ষা এবং দরপত্রের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা প্রকাশ করা হলে প্রকল্প নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব পাওয়া সম্ভব হবে।

সর্বাধিক পঠিত

ভৈরবের ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

কাজ শেষের আগেই ১০ কোটি টাকার বিল পরিশোধ, ডিএনসিসির সড়কবাতি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ১০:০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সড়কবাতি স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই দুটি প্রকল্পের বিপরীতে প্রোটেস্টার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ১০ কোটি ৬৯ লাখ টাকার বিল পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আকরাম খান।

ডিএনসিসির নথি অনুযায়ী, গত ৩০ জুন কাজ শেষ হওয়ার আগেই দুটি প্রকল্পের বিপরীতে মোট ১০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৩ হাজার ২১৮ টাকার বিলের ফাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বাক্ষর করেন। আয়কর ও ভ্যাট বাবদ অর্থ কর্তনের পর নিট বিলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কোটি ১৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৪৭ টাকা। এর মধ্যে অঞ্চল-৫-এর একটি প্রকল্পে কাজের ভৌত অগ্রগতি ছিল মাত্র ২৯ শতাংশ।

প্রোটেস্টার লিমিটেড ডিএনসিসির বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে সড়কবাতি স্থাপনের দুটি কাজ পেয়েছে। এ দুটি কাজের মোট চুক্তিমূল্য ৩৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। কাজের অগ্রগতি, বিল পরিশোধ এবং দরপত্রের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আগে সফলভাবে সম্পন্ন করা কাজের অভিজ্ঞতা দেখাতে হতো। কিন্তু প্রোটেস্টার লিমিটেড দুটি দরপত্রেই রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) একটি কাজের সনদ জমা দেয়, যার বাস্তবায়ন তখনো চলমান ছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, রাসিকের ১৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ওই কাজটি শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের ৩১ মে। কাজটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ ডিএনসিসির দরপত্রে অংশ নেওয়ার সময় কাজটি অসম্পন্ন ছিল।

এ অবস্থায় সম্পন্ন কাজের অভিজ্ঞতা হিসেবে ওই সনদ গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে ডিএনসিসির অন্য একটি সাধারণ কাজের সনদ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে জাহাঙ্গীর গেট এবং অঞ্চল-৩-এর আওতাধীন বিভিন্ন সড়কে বাতির খুঁটি ও স্মার্ট এলইডি লাইট সরবরাহের জন্য ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করে ডিএনসিসি। ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার এই দরপত্র আহ্বান করেন সংস্থাটির নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম।

দরপত্রে অংশ নেয় প্রোটেস্টার লিমিটেড, এস এস রহমান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং সালেক পাওয়ার লিমিটেড।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে পাঁচ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি গত ১০ বছরের মধ্যে একটি চুক্তির আওতায় অন্তত ১০ কোটি ৮ লাখ টাকার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রতি বছর ২৩৫টি ডেকোরেটিভ পোল বা সৌন্দর্যবর্ধক বাতির খুঁটি এবং ৩৯৫টি স্মার্ট এলইডি স্ট্রিট লাইট সরবরাহ অথবা উৎপাদনের সক্ষমতা থাকার শর্তও দেওয়া হয়েছিল।

প্রোটেস্টার লিমিটেডের জমা দেওয়া রাসিকের কাজের চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। ফলে দরপত্র জমা দেওয়ার সময় সেটি সম্পন্ন হওয়ার কথা নয়। এ কারণে দরপত্রের অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অসম্পন্ন কাজের অভিজ্ঞতা সনদ গ্রহণের ঘটনায় সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০০৮ (পিপিআর) লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (পিপিএ) বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নির্দেশনা এবং দরদাতাদের জন্য প্রযোজ্য নির্দেশনার ১৫.১ (বি) ধারা অনুসরণের পরিবর্তে ডিএনসিসির ১৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকার একটি সাধারণ কাজের সনদ ব্যবহার করা হয়।

এ ক্ষেত্রে কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে ওই সনদ গ্রহণ করা হয়েছিল, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি কীভাবে অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং পিপিএর নির্দেশনা কতটা অনুসরণ করা হয়েছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

সড়কবাতি প্রকল্পকে ঘিরে আরেকটি প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে চীন সফর নিয়ে। প্রকল্পের মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে ডিএনসিসি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের ১০ কর্মকর্তার চীন সফরের অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যসহ মোট ২২ জন ওই সফরে যান।

সরকারি প্রকল্পের মালামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত, ব্যয়ের স্বচ্ছতা এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সফরের প্রকৃত ব্যয় কত ছিল, কারা ব্যয় বহন করেছেন এবং সফরের সঙ্গে প্রকল্পের কী ধরনের কারিগরি বা প্রশাসনিক সম্পর্ক ছিল, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবেদনটির প্রেক্ষাপটে আরও অভিযোগ উঠেছে, গত এক বছরে ডিএনসিসির ঠিকাদারি কাজের উল্লেখযোগ্য অংশ আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের প্রতিষ্ঠানের হাতে গেছে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনকে গুমের ঘটনায় কিসমৎ হায়াতের স্বীকারোক্তির প্রসঙ্গও আলোচনায় এসেছে।

তবে এসব বিষয় আলাদা অভিযোগ ও ঘটনা। সড়কবাতি প্রকল্পের দরপত্র, বিল পরিশোধ কিংবা চীন সফরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পরিচয়ের সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা নির্ধারণে নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

ডিএনসিসির সড়কবাতি প্রকল্পে কাজের বাস্তব অগ্রগতির তুলনায় বিল পরিশোধের পরিমাণ, দরপত্রে অভিজ্ঞতার সনদ গ্রহণ এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে বিদেশ সফরের বিষয়গুলো নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।

বিশেষ করে প্রকল্পের বিল অনুমোদনকারী কর্মকর্তা, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি, কার্যাদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি কাজের বাস্তব অগ্রগতি যাচাই, বিলের হিসাব নিরীক্ষা এবং দরপত্রের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা প্রকাশ করা হলে প্রকল্প নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলোর জবাব পাওয়া সম্ভব হবে।