১২:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে সড়কেই প্রাণ গেল তিন স্বেচ্ছাসেবীর

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০২

: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও সামাজিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাদের অঙ্গীকার। অথচ সেই তিন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীই এবার প্রাণ হারালেন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। প্রশিক্ষণ শেষে ফরিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরায় ফেরার পথে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন তারা। এ ঘটনায় আরও তিন স্বেচ্ছাসেবী ও অ্যাম্বুলেন্সচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি সেতু-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’-এর মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাব্বি মোল্যা (১৯), মাগুরা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ আরিক (২২) এবং একই কলেজের রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাবাসসুম ঐশী (২৫)। রাব্বি মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। নিহত তিনজনই মাগুরা পৌর এলাকার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনায় আহত সাগর, রিয়া ও জয়কে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জয়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

সংগঠনটির ফরিদপুর জেলা শাখা সূত্রে জানা যায়, জাগো ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘সমতা তারুণ্যের’ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার ব্যুরো বাংলাদেশ মিলনায়তনে ডিজিটাল লিটারেসি ও সাইবার বুলিংবিষয়ক অর্ধদিবসের একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিতে মাগুরা থেকে ছয়জন স্বেচ্ছাসেবী ফরিদপুরে আসেন।

কর্মশালা শেষে জুমার নামাজ আদায় করে তারা মাগুরায় ফেরার প্রস্তুতি নেন। এ সময় ঢাকা থেকে মাগুরাগামী একটি খালি অ্যাম্বুলেন্স পেয়ে সেটিতে চড়ে রওনা হন তারা। পথে মধুখালীর আড়কান্দি সেতু এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী ‘কিং ফিশার পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ভেতরে থাকা ছয় স্বেচ্ছাসেবী ও চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিন সহকর্মীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে। কর্মশালায় অংশ নেওয়া ফরিদপুর শাখার সদস্য তুষার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সকাল থেকে একসঙ্গে কর্মশালা করলাম, দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ওদের বিদায় জানালাম। কে জানত—এ বিদায়ই শেষ বিদায় হবে।’

নিহত রাব্বি মোল্যার নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের একটি পুরোনো কর্মসূচির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে শোক ও ক্ষোভ জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সুমাইয়া সাফাত। তিনি লেখেন, ‘যারা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে যুদ্ধ করল, আজ তাদেরই এই সড়কে প্রাণ হারাতে হলো।’

করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম জানান, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করে কানাইপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা তিন তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। তাদের অকালপ্রয়াণে শোকাহত সহকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

সর্বাধিক পঠিত

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ২৪৭ কোটি টাকার ফ্ল্যাট বিক্রিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা

সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে সড়কেই প্রাণ গেল তিন স্বেচ্ছাসেবীর

আপডেট: ১১:৫৬:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

: সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ও সামাজিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তাদের অঙ্গীকার। অথচ সেই তিন তরুণ স্বেচ্ছাসেবীই এবার প্রাণ হারালেন মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। প্রশিক্ষণ শেষে ফরিদপুর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরায় ফেরার পথে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন তারা। এ ঘটনায় আরও তিন স্বেচ্ছাসেবী ও অ্যাম্বুলেন্সচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি সেতু-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’-এর মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাব্বি মোল্যা (১৯), মাগুরা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ আরিক (২২) এবং একই কলেজের রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাবাসসুম ঐশী (২৫)। রাব্বি মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্ডি মহাবিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। নিহত তিনজনই মাগুরা পৌর এলাকার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনায় আহত সাগর, রিয়া ও জয়কে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে জয়ের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

সংগঠনটির ফরিদপুর জেলা শাখা সূত্রে জানা যায়, জাগো ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘সমতা তারুণ্যের’ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার ব্যুরো বাংলাদেশ মিলনায়তনে ডিজিটাল লিটারেসি ও সাইবার বুলিংবিষয়ক অর্ধদিবসের একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নিতে মাগুরা থেকে ছয়জন স্বেচ্ছাসেবী ফরিদপুরে আসেন।

কর্মশালা শেষে জুমার নামাজ আদায় করে তারা মাগুরায় ফেরার প্রস্তুতি নেন। এ সময় ঢাকা থেকে মাগুরাগামী একটি খালি অ্যাম্বুলেন্স পেয়ে সেটিতে চড়ে রওনা হন তারা। পথে মধুখালীর আড়কান্দি সেতু এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী ‘কিং ফিশার পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ভেতরে থাকা ছয় স্বেচ্ছাসেবী ও চালক গুরুতর আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অন্যদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

তিন সহকর্মীর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগঠনটির সদস্যদের মধ্যে। কর্মশালায় অংশ নেওয়া ফরিদপুর শাখার সদস্য তুষার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘সকাল থেকে একসঙ্গে কর্মশালা করলাম, দুপুরে জুমার নামাজ শেষে ওদের বিদায় জানালাম। কে জানত—এ বিদায়ই শেষ বিদায় হবে।’

নিহত রাব্বি মোল্যার নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের একটি পুরোনো কর্মসূচির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে শোক ও ক্ষোভ জানিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সুমাইয়া সাফাত। তিনি লেখেন, ‘যারা সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দিতে যুদ্ধ করল, আজ তাদেরই এই সড়কে প্রাণ হারাতে হলো।’

করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম জানান, দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করে কানাইপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা তিন তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। তাদের অকালপ্রয়াণে শোকাহত সহকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।