যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রগর্ভস্থ ইন্টারনেট কেবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দেশটির অর্থনৈতিক অবকাঠামোয় হামলা হলে তার জবাবও আঞ্চলিক পর্যায়ে দেওয়া হবে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মহসেন রেজাই বলেছেন, ইরানের অর্থনৈতিক জীবনরেখায় হামলা চালানো হলে হামলায় সহায়তাকারী দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবকাঠামোও অক্ষত থাকবে—এমন পরিস্থিতি তেহরান মেনে নেবে না। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে সমুদ্রগর্ভস্থ যোগাযোগ কেবল, ডেটা সেন্টার ও এআই স্থাপনাগুলোও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ইরানি প্রতিনিধিদলের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মেহেদি মোহাম্মাদিও সম্ভাব্য নতুন সংঘাতকে ইরানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তা প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এবং বৃহত্তর ভৌগোলিক এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে সম্ভাব্য যৌথ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য মার্কিন সামরিক উপদেষ্টারা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা তৈরি করেছেন। তবে নতুন হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বৈঠক ঘিরেও নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থায়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানি শোধনাগার, তেল শোধনাগার ও বন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য পরিণতি এখনো আশঙ্কা ও হুঁশিয়ারির পর্যায়ে রয়েছে।
সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও চুক্তি সংশোধনের আলোচনা চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। পারমাণবিক স্থাপনায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শন, ইউরেনিয়াম রপ্তানি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ফেরত দেওয়ার মতো বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও অব্যাহত রয়েছে।





















