০৬:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ, কাঠগড়ায় সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:১৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫০৯

নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) জেলা কার্যালয়ে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মোটরযানের নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হলেও দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাহবুবুর রহমান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন সেবা পেতে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর বা অনুমোদনের নামে সেবাভেদে ১ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনের মতো সেবায় এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সঙ্গে মোটরযান পরিদর্শক উসমান গনি, মোটরযান পরিদর্শক সাখায়াত হোসেন এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসাইনের নামও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এ ছাড়া উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়ক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ফাইল ও কাগজপত্রসংক্রান্ত তথ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, নির্ধারিত ফি জমা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোটরযান পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে এই প্রক্রিয়ায় অযথা জটিলতা তৈরির অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা।

তাঁদের অভিযোগ, সরাসরি আবেদন করতে গেলে কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো, বারবার সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো কিংবা ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে অনেকে দালালদের শরণাপন্ন হন।

অভিযোগ রয়েছে, দালালরা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন। এসব অর্থের একটি অংশ অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে পৌঁছায় বলেও দাবি করা হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন এবং রুট পারমিটসংক্রান্ত সেবাতেও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট লেনদেনের নথি, যাচাইকৃত আর্থিক প্রমাণ কিংবা তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

তাঁদের দাবি, ঢাকায় তাঁর নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া গ্রামের বাড়িতে নিজের পরিবার ও বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে কথিত সম্পদের মালিকানা, আর্থিক মূল্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সম্পদের দলিল, আয়কর বিবরণী, আয়ের উৎস ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ২০২৫ সালের মে মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। তবে সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, অভিযানের আগে খবর ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্টরা সতর্ক হয়ে যান এবং প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযানের আনুষ্ঠানিক ফলাফল বা তদন্তের হালনাগাদ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, বিআরটিএর সদর দপ্তর থেকে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় নির্দেশনা জারির কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে এসব নির্দেশনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে কোনো দালালের অস্তিত্ব নেই। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি বা তাঁর কার্যালয়ের কেউ কোনো অনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নন।

ফলে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি।

সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রতিটি সেবার নির্ধারিত সরকারি ফি ও সম্ভাব্য নিষ্পত্তির সময়সীমা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা প্রয়োজন। আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে অনুমোদন ও সনদ প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে অনিয়মের সুযোগ কমতে পারে।

পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা, ফাইলের অগ্রগতি জানার সুযোগ এবং দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা জরুরি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অভিযোগের নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

নান্দনিক সাজসজ্জায় দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে মাধবপুরের দুর্গাপ্রতিমা

নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ, কাঠগড়ায় সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান

আপডেট: ০৬:১৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) জেলা কার্যালয়ে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে হয়রানি, অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মোটরযানের নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা পেতে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের দাবি, সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হলেও দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হচ্ছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাহবুবুর রহমান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন সেবা পেতে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর বা অনুমোদনের নামে সেবাভেদে ১ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়। রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সনদ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মালিকানা পরিবর্তনের মতো সেবায় এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সঙ্গে মোটরযান পরিদর্শক উসমান গনি, মোটরযান পরিদর্শক সাখায়াত হোসেন এবং সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসাইনের নামও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এ ছাড়া উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহায়ক পর্যায়ের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ফাইল ও কাগজপত্রসংক্রান্ত তথ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই, নির্ধারিত ফি জমা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোটরযান পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে এই প্রক্রিয়ায় অযথা জটিলতা তৈরির অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা।

তাঁদের অভিযোগ, সরাসরি আবেদন করতে গেলে কাগজপত্রে ত্রুটি দেখানো, বারবার সংশোধনের জন্য ফেরত পাঠানো কিংবা ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে অনেকে দালালদের শরণাপন্ন হন।

অভিযোগ রয়েছে, দালালরা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন। এসব অর্থের একটি অংশ অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে পৌঁছায় বলেও দাবি করা হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন এবং রুট পারমিটসংক্রান্ত সেবাতেও অনানুষ্ঠানিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্দিষ্ট লেনদেনের নথি, যাচাইকৃত আর্থিক প্রমাণ কিংবা তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাশাপাশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

তাঁদের দাবি, ঢাকায় তাঁর নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। এ ছাড়া গ্রামের বাড়িতে নিজের পরিবার ও বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে কথিত সম্পদের মালিকানা, আর্থিক মূল্য এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সম্পদের দলিল, আয়কর বিবরণী, আয়ের উৎস ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, ২০২৫ সালের মে মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। তবে সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, অভিযানের আগে খবর ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্টরা সতর্ক হয়ে যান এবং প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযানের আনুষ্ঠানিক ফলাফল বা তদন্তের হালনাগাদ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, বিআরটিএর সদর দপ্তর থেকে দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সময় নির্দেশনা জারির কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে এসব নির্দেশনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন, নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে কোনো দালালের অস্তিত্ব নেই। তিনি আরও দাবি করেন, তিনি বা তাঁর কার্যালয়ের কেউ কোনো অনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত নন।

ফলে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনে আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি।

সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ের কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি প্রতিটি সেবার নির্ধারিত সরকারি ফি ও সম্ভাব্য নিষ্পত্তির সময়সীমা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা প্রয়োজন। আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে অনুমোদন ও সনদ প্রদান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা গেলে অনিয়মের সুযোগ কমতে পারে।

পাশাপাশি অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা, ফাইলের অগ্রগতি জানার সুযোগ এবং দালালমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা জরুরি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের মাধ্যমে অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অভিযোগের নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।