০৮:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

পুরোনো বিভাগীয় মামলার পরও ঢাকা মেট্রো সার্কেলে মনজুরুল আলম শরীফের পদায়ন, ইইডিতে প্রশ্ন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:১০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫১৪

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মনজুরুল আলম শরীফের পদায়ন ঘিরে অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অতীতে একই সার্কেলে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অতিরিক্ত বিল পরিশোধের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়, তবু পুরোনো কর্মস্থলে তাঁর পুনরায় পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের একাংশ।

গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে চাঁদপুর জেলা থেকে ঢাকা মেট্রো সার্কেলে বদলি করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মনজুরুল আলম শরীফের বিরুদ্ধে কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত ও অগ্রিম বিল দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় আইডিয়াল কলেজের আটতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ‘শফিক এন্টারপ্রাইজ’কে ৯৩ লাখ টাকা এবং মোহাম্মদপুরে নূরজাহান বালিকা বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পে একই প্রতিষ্ঠানকে দেড় কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মিরপুরে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের খেলার মাঠ ও রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ‘অনিতা এন্টারপ্রাইজ’কে ১৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

দীর্ঘ তদন্ত, ব্যক্তিগত শুনানি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোলেমান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে মনজুরুল আলম শরীফসহ চার কর্মকর্তাকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অর্থাৎ, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বহাল থাকার তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে অতীতে অভিযোগ ওঠা একই সার্কেলে তাঁকে পুনরায় পদায়ন করায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তাঁদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কর্মস্থলে পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জনআস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

চাঁদপুর জেলায় দীর্ঘদিন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মনজুরুল আলম শরীফের বিরুদ্ধে টেন্ডার-বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি, তদন্ত প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

বিভাগীয় মামলা, অতীতের অভিযোগ এবং বর্তমান পদায়ন নিয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে রাজনৈতিকভাবে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা একই সার্কেলে পুনরায় পদায়নের কারণ জানতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্বে) মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো সার্কেলের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীর নিজ কার্যালয়ে নগদ অর্থ লেনদেনের একটি পুরোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সিলেট সার্কেলে বদলি করা হয় বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতির পর ঢাকা মেট্রো সার্কেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে মনজুরুল আলম শরীফের নিয়োগ নতুন করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পদায়ন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হলে বদলির প্রশাসনিক কারণ স্পষ্ট করা এবং অতীতের অভিযোগ ও বিভাগীয় মামলার নথিপত্রের ভিত্তিতে তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে আহত জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা যাচাইয়ে ৯ সদস্যের জেলা কমিটি পুনর্গঠন

পুরোনো বিভাগীয় মামলার পরও ঢাকা মেট্রো সার্কেলে মনজুরুল আলম শরীফের পদায়ন, ইইডিতে প্রশ্ন

আপডেট: ১০:১০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে মনজুরুল আলম শরীফের পদায়ন ঘিরে অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অতীতে একই সার্কেলে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অতিরিক্ত বিল পরিশোধের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। যদিও পরবর্তী সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁকে ওই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়, তবু পুরোনো কর্মস্থলে তাঁর পুনরায় পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের একাংশ।

গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এ এস এম শাহরিয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে চাঁদপুর জেলা থেকে ঢাকা মেট্রো সার্কেলে বদলি করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মনজুরুল আলম শরীফের বিরুদ্ধে কয়েকটি নির্মাণ প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত ও অগ্রিম বিল দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় আইডিয়াল কলেজের আটতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পে ‘শফিক এন্টারপ্রাইজ’কে ৯৩ লাখ টাকা এবং মোহাম্মদপুরে নূরজাহান বালিকা বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন নির্মাণ প্রকল্পে একই প্রতিষ্ঠানকে দেড় কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়।

এ ছাড়া মিরপুরে সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের খেলার মাঠ ও রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পে ‘অনিতা এন্টারপ্রাইজ’কে ১৪ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

দীর্ঘ তদন্ত, ব্যক্তিগত শুনানি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব সোলেমান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে মনজুরুল আলম শরীফসহ চার কর্মকর্তাকে বিভাগীয় মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অর্থাৎ, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি বহাল থাকার তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে অতীতে অভিযোগ ওঠা একই সার্কেলে তাঁকে পুনরায় পদায়ন করায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তাঁদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কর্মস্থলে পদায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জনআস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

চাঁদপুর জেলায় দীর্ঘদিন নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মনজুরুল আলম শরীফের বিরুদ্ধে টেন্ডার-বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি, তদন্ত প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

বিভাগীয় মামলা, অতীতের অভিযোগ এবং বর্তমান পদায়ন নিয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে রাজনৈতিকভাবে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা একই সার্কেলে পুনরায় পদায়নের কারণ জানতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্বে) মো. তারেক আনোয়ার জাহেদীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো সার্কেলের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীর নিজ কার্যালয়ে নগদ অর্থ লেনদেনের একটি পুরোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। ভিডিওটি প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সিলেট সার্কেলে বদলি করা হয় বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতির পর ঢাকা মেট্রো সার্কেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে মনজুরুল আলম শরীফের নিয়োগ নতুন করে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পদায়ন নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হলে বদলির প্রশাসনিক কারণ স্পষ্ট করা এবং অতীতের অভিযোগ ও বিভাগীয় মামলার নথিপত্রের ভিত্তিতে তথ্যনির্ভর মূল্যায়ন জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগ, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখা প্রয়োজন।