নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুরে সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৩০ জনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঘটনায় জড়িত আরও অনেকে এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের প্রযুক্তিগত তথ্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ও নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আলীর গুদারাঘাট এলাকা থেকে নুর আলম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
এ ঘটনায় বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি রাড্ডা কাণ্ডের উল্লেখ না করে দলীয় শৃঙ্খলা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা প্রথমে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পরে ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির স্থাপনার একটি বড় অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, হামলার আগে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে শুটার লেলিনের কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন জড়ো হন। একই সময়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মোহাম্মদ হানিফ মিয়ার কার্যালয়ের সামনেও লোকজন জড়ো হওয়ার তথ্য সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, হামলাকারীদের একটি অংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্রসংলগ্ন ছিন্নমূল মার্কেট এলাকায় গিয়ে লাঠিসোঁটা, রামদা ও হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র সংগ্রহ করে। পরে অনেকে মাথায় কাপড় ও মুখে আবরণ দিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে ওই সময় একটি সাদা মাইক্রোবাস চলাচলের দৃশ্যও পাওয়া গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার বলেন, হামলার নির্দেশদাতাসহ সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার না করলেও প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে তাঁদের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। বাকি ব্যক্তিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সোহেল, জুয়েল, জিহাদ হাসান, রাব্বি, শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, শাহ আলম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম, শাকিল, মিন্টু, মিলন, সাইফুল ইসলাম খোকন, আলম ও লোবেড গাড়ির চালক শহীদুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন।
ঘটনার পরদিন, ২৫ সেপ্টেম্বর, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়। মামলায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ আরও ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নাম আসার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, রাড্ডা কাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং শনাক্ত হওয়া বাকি ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।





















