১১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা ‘পরিকল্পিত’: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১১

সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নির্বাচনের আগে ও পরে পরিবর্তিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ—এমন মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বর্তমানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘পুরোনো ঐক্য’ নতুন করে সক্রিয় হয়ে সাত মাস বয়সী সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

তিনি আশির দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ সংগঠনের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশির দশকে একদিকে খালেদা জিয়া, অন্যদিকে শেখ হাসিনা আন্দোলন-সংগ্রাম করছিলেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে কারা অংশ নিয়েছিল, সেই ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তিনি যে ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ রাজনৈতিক ঐক্যের কথা বলছেন, তার বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন।

তবে এগুলো তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা; বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইয়ের কোনো তথ্য তিনি উপস্থাপন করেছেন কি না, তা প্রতিবেদনের বর্ণনায় স্পষ্ট নয়।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং পরবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গও টানেন।

তিনি বলেন, জনগণ এখন তাদের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি সচেতন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের ওপর আস্থা রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা না করা।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুর জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আমজাদ হোসেন। জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সর্বাধিক পঠিত

সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা ‘পরিকল্পিত’: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা ‘পরিকল্পিত’: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

আপডেট: ১১:০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং নির্বাচনের আগে ও পরে পরিবর্তিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ—এমন মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে মেহেরপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বর্তমানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘পুরোনো ঐক্য’ নতুন করে সক্রিয় হয়ে সাত মাস বয়সী সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

তিনি আশির দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ সংগঠনের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষাকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়েছিল।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আশির দশকে একদিকে খালেদা জিয়া, অন্যদিকে শেখ হাসিনা আন্দোলন-সংগ্রাম করছিলেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদের নির্বাচনে কারা অংশ নিয়েছিল, সেই ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তিনি যে ‘গুপ্ত ও সুপ্ত’ রাজনৈতিক ঐক্যের কথা বলছেন, তার বিষয়ে ধারণা পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন।

তবে এগুলো তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা; বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাইয়ের কোনো তথ্য তিনি উপস্থাপন করেছেন কি না, তা প্রতিবেদনের বর্ণনায় স্পষ্ট নয়।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। তিনি ২০১৪ সালের নির্বাচন এবং পরবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গও টানেন।

তিনি বলেন, জনগণ এখন তাদের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি সচেতন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের ওপর আস্থা রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা এবং কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা না করা।

মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টনের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুর জয়ন্ত কুমার কুন্ডু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুন এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আমজাদ হোসেন। জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্য, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।