পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষ বা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে যায়নি। ফলে জ্বালানি, তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিতেও ধারাবাহিকতা থাকবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কার্যক্রম ও সার্বিক সরকারি কার্যক্রম তদারকি এবং সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আশেক হাসান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তেল-গ্যাসের পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।
আসন্ন পূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়ার আহ্বান জানান শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, কোথায় কতটি পূজামণ্ডপ হচ্ছে এবং কোন এলাকায় কী ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজন, তা আগে থেকেই পর্যালোচনা করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইটভাটা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেসব ইটভাটা এখনো নিয়মের আওতার বাইরে রয়েছে, সেগুলোকে আইন ও বিধিবিধানের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এবং নিয়ম না মেনে পরিচালিত ইটভাটাগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ও আসন্ন পূজাকে ঘিরে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার খোকন, পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, এসআরবি যশোর ক্যাম্পের কমান্ডার ফজলে রাব্বি প্রিন্স, বিজিবির কর্মকর্তারা, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, সিভিল সার্জন মাসুদ রানা, যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ জাহাঙ্গীর ফেরদৌস সুমনসহ জেলার নয় থানার অফিসার ইনচার্জরা।
সভায় জেলার সার্বিক সরকারি কার্যক্রমের সমন্বয় ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।




















