০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

লীরা গ্রুপ ও সম্রাট প্যাকেজিংয়ের এমডির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ দুদকে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

লীরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (লীরা পাইপ) ও সম্রাট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কে. এম. আলমগীর ইকবালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি, আয়কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক সিনিয়র আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, লীরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কে. এম. আলমগীর ইকবাল নিয়মিত আয়কর ও ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছেন। আয়কর ও ভ্যাট অফিসে তথ্যবিহীন অডিট রিপোর্ট দাখিল এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্রাট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজেও আয়কর ও রাজস্ব সংক্রান্ত অনিয়ম রয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটিতে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করলেও নিয়মিত টিডিএস (উৎসে কর) প্রদান করা হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিট রিপোর্ট ও আর্থিক নথিপত্র যাচাই করলে এসব অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

এছাড়া রাজধানীর গুলশানে আলমগীর ইকবালের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ ভাড়া আয় হলেও ব্যক্তিগত আয়কর নথিতে তা যথাযথভাবে দেখানো হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের দুটি দামি জিপ গাড়ি ব্যবহারের কথাও অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কে. এম. আলমগীর ইকবাল বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে ক্লাবের এ সিসিএল পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন। ক্লাবের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মদ আমদানি এবং এ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও আনা হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় নিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারী তার আবেদনে রাষ্ট্রের রাজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বার্থে লীরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও সম্রাট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের আয়কর, ভ্যাট, টিডিএসসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।

তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত কে. এম. আলমগীর ইকবালের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

লীরা গ্রুপ ও সম্রাট প্যাকেজিংয়ের এমডির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ দুদকে

লীরা গ্রুপ ও সম্রাট প্যাকেজিংয়ের এমডির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ দুদকে

আপডেট: ০৩:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

লীরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (লীরা পাইপ) ও সম্রাট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কে. এম. আলমগীর ইকবালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি, আয়কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক সিনিয়র আইনজীবী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, লীরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কে. এম. আলমগীর ইকবাল নিয়মিত আয়কর ও ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছেন। আয়কর ও ভ্যাট অফিসে তথ্যবিহীন অডিট রিপোর্ট দাখিল এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্রাট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজেও আয়কর ও রাজস্ব সংক্রান্ত অনিয়ম রয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটিতে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করলেও নিয়মিত টিডিএস (উৎসে কর) প্রদান করা হয় না বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিট রিপোর্ট ও আর্থিক নথিপত্র যাচাই করলে এসব অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে অভিযোগকারীর দাবি।

এছাড়া রাজধানীর গুলশানে আলমগীর ইকবালের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ ভাড়া আয় হলেও ব্যক্তিগত আয়কর নথিতে তা যথাযথভাবে দেখানো হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের দুটি দামি জিপ গাড়ি ব্যবহারের কথাও অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কে. এম. আলমগীর ইকবাল বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিগত সরকারের সময়ে ক্লাবের এ সিসিএল পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন। ক্লাবের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মদ আমদানি এবং এ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগও আনা হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় নিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগকারী তার আবেদনে রাষ্ট্রের রাজস্ব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের স্বার্থে লীরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও সম্রাট প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের আয়কর, ভ্যাট, টিডিএসসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথিপত্র তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।

তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত কে. এম. আলমগীর ইকবালের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।