০৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই বিদ্রোহী কবি। তাঁর মৃত্যুর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও অন্যায়, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর লেখা কবিতা ও গান আজও বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে উঠলেও প্রতিকূলতা তাঁকে দমাতে পারেনি। বরং নিজের সৃষ্টিশীলতা ও প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।

কবিতা, গান, গজল, হামদ, নাত, নাটক, গল্প, প্রবন্ধ ও শ্যামাসংগীতসহ সাহিত্যের নানা শাখায় নজরুলের ছিল অবাধ বিচরণ। মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি উপহার দেন।

নজরুলের কবিতা ও গান মানুষের মধ্যে জাগিয়েছে প্রতিবাদ, সাম্য ও স্বাধীনতার চেতনা। শোষণ-বঞ্চনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তাঁর সৃষ্টিতে যেমন প্রেম ও মানবতার কথা উঠে এসেছে, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের বার্তাও ছিল প্রবল। কবির ভাষায়—‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত শুধু একটি সময়ের জন্য নয়; তাঁর সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাই পাঁচ দশক পরও বাঙালির হৃদয় ও চেতনায় অমর হয়ে আছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

সর্বাধিক পঠিত

লীরা গ্রুপ ও সম্রাট প্যাকেজিংয়ের এমডির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ দুদকে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট: ১১:১৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই বিদ্রোহী কবি। তাঁর মৃত্যুর পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও অন্যায়, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর লেখা কবিতা ও গান আজও বাঙালির চেতনায় গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বেড়ে উঠলেও প্রতিকূলতা তাঁকে দমাতে পারেনি। বরং নিজের সৃষ্টিশীলতা ও প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।

কবিতা, গান, গজল, হামদ, নাত, নাটক, গল্প, প্রবন্ধ ও শ্যামাসংগীতসহ সাহিত্যের নানা শাখায় নজরুলের ছিল অবাধ বিচরণ। মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি উপহার দেন।

নজরুলের কবিতা ও গান মানুষের মধ্যে জাগিয়েছে প্রতিবাদ, সাম্য ও স্বাধীনতার চেতনা। শোষণ-বঞ্চনা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সোচ্চার। তাঁর সৃষ্টিতে যেমন প্রেম ও মানবতার কথা উঠে এসেছে, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের বার্তাও ছিল প্রবল। কবির ভাষায়—‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবার বাংলাদেশে আনা হয়। তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়।

১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে, মৃত্যুবরণ করেন জাতীয় কবি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১২ ভাদ্র সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা করে কবির সমাধিতে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর সমাধি প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত শুধু একটি সময়ের জন্য নয়; তাঁর সাম্য, মানবতা, স্বাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাই পাঁচ দশক পরও বাঙালির হৃদয় ও চেতনায় অমর হয়ে আছেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।