১২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরল অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাজুর মরদেহ, কলকাতায় রেবতীর শেষকৃত্য

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:২৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে ফিরেছে। একই ঘটনায় নিহত কালীগঞ্জের রেবতী সরকারের শেষকৃত্য কলকাতাতেই সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাজুর মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়। ভোমরা অভিবাসন কার্যালয়ের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে কালীগঞ্জের নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন।

ভোমরা অভিবাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা সজিব বালা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার দুপুরে ভোমরা অভিবাসন দিয়ে সাজুর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাজুর মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ হাতে পাওয়ার পর তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন। জোহরের নামাজের পর দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও মরদেহ পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় সময় পরিবর্তন হতে পারে। বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরের আগে কালীগঞ্জে সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্বজনরা মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন। বাড়ির পাশে কবর খনন করে রাখা হয়েছে। সাজুর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর দাফনের কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সাজুর মরদেহ দেশে ফেরার খবর পেয়ে শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন আলিমুজ্জামান সাজু। চিকিৎসা শেষে শনিবার দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু জীবিত অবস্থায় নয়, কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়ে মরদেহ হয়ে দেশে ফিরলেন তিনি।

এর আগে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাজুর মৃত্যুর খবর তার স্বজনদের কাছে পৌঁছায়।

একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকারের শেষকৃত্য কলকাতায় সম্পন্ন হয়েছে। ভারতে থাকা তার দুই সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে তার শেষকৃত্য করা হয়। এ সময় রেবতীর স্বামীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার সকালে তারালী ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতীর দেবর তপন সরকার জানান, চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন রেবতী। শনিবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে তার ছেলে-মেয়ে ভারতে থাকায় কলকাতাতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাজু ও রেবতীর মৃত্যুতে কালীগঞ্জের দুটি পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

সাজুর মরদেহ দেশে ফেরার পর নিজ গ্রামেই তার দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে জড়ো হচ্ছেন।

সর্বাধিক পঠিত

পাঁচ বছর সঙ্গে থাকলে জীবন বদলে যাবে’—গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে গাড়িচালকের বিস্ফোরক অভিযোগ

ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফিরল অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাজুর মরদেহ, কলকাতায় রেবতীর শেষকৃত্য

আপডেট: ০২:২৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে ফিরেছে। একই ঘটনায় নিহত কালীগঞ্জের রেবতী সরকারের শেষকৃত্য কলকাতাতেই সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাজুর মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়। ভোমরা অভিবাসন কার্যালয়ের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে কালীগঞ্জের নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন।

ভোমরা অভিবাসন কার্যালয়ের কর্মকর্তা সজিব বালা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার দুপুরে ভোমরা অভিবাসন দিয়ে সাজুর মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাজুর মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ হাতে পাওয়ার পর তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হবেন। জোহরের নামাজের পর দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও মরদেহ পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হওয়ায় সময় পরিবর্তন হতে পারে। বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরের আগে কালীগঞ্জে সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্বজনরা মরদেহের অপেক্ষায় রয়েছেন। বাড়ির পাশে কবর খনন করে রাখা হয়েছে। সাজুর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর দাফনের কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সাজুর মরদেহ দেশে ফেরার খবর পেয়ে শেষবারের মতো প্রিয়জনকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের আবহ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলেন আলিমুজ্জামান সাজু। চিকিৎসা শেষে শনিবার দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু জীবিত অবস্থায় নয়, কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়ে মরদেহ হয়ে দেশে ফিরলেন তিনি।

এর আগে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাজুর মৃত্যুর খবর তার স্বজনদের কাছে পৌঁছায়।

একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার রেবতী সরকারের শেষকৃত্য কলকাতায় সম্পন্ন হয়েছে। ভারতে থাকা তার দুই সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার কলকাতার নিমতলা ঘাটে তার শেষকৃত্য করা হয়। এ সময় রেবতীর স্বামীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার সকালে তারালী ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতীর দেবর তপন সরকার জানান, চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন রেবতী। শনিবার তার দেশে ফেরার কথা ছিল। তবে তার ছেলে-মেয়ে ভারতে থাকায় কলকাতাতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।

কলকাতার আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সাজু ও রেবতীর মৃত্যুতে কালীগঞ্জের দুটি পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

সাজুর মরদেহ দেশে ফেরার পর নিজ গ্রামেই তার দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার বাড়িতে জড়ো হচ্ছেন।