০৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪: মোটরযান পরিদর্শক অনিমেষ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষবাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-৪ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরযান নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম, হয়রানি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক অনিমেষ মণ্ডল।

একাধিক সেবাপ্রার্থী ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে নানা অজুহাতে তাদের হয়রানি করা হয়। কখনো ফাইল আটকে রাখা, কখনো অযথা বিলম্ব এবং কখনো বিভিন্ন ত্রুটির কথা বলে সেবা পেতে জটিলতা তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরীক্ষায় পাস করানো ও ফেল দেখানোর অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও কিছু পরীক্ষার্থীর অনলাইনে ‘ফেল’ দেখানো হচ্ছে। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সার্ভার জটিলতা, ব্যবহারিক পরীক্ষায় ত্রুটি কিংবা পরীক্ষার খাতা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তী সময়ে পুনরায় আবেদন করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব বা ইঙ্গিত দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলে পরীক্ষায় দুর্বল ফল করলেও পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।

এমনকি শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসেও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ

শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ রয়েছে।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা হয়। কখনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে বারবার কার্যালয়ে আসতে বলা হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটিই ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আগের কর্মস্থলেও অভিযোগের দাবি

অভিযোগকারীদের দাবি, অনিমেষ মণ্ডল এর আগে বিআরটিএ যশোর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল। ঢাকা মেট্রো-৪ কার্যালয়ে যোগদানের পরও একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি তাদের।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তদন্তের আগে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিআরটিএর মতো প্রতিষ্ঠানে ঘুষ বা অনিয়মের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হলে এর প্রভাব সরাসরি সড়ক নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে। একইভাবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফিটনেস সনদ দেওয়া হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এ কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা, যানবাহনের ফিটনেস এবং রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের জবাবদিহিতাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মোটরযান পরিদর্শক অনিমেষ মণ্ডলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪ কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ করে নির্ধারিত ফি ও নিয়ম অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

সর্বাধিক পঠিত

শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে শিক্ষা বোর্ড সচিবের অপসারণ দাবি, এমএম কলেজে বিক্ষোভ

বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪: মোটরযান পরিদর্শক অনিমেষ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ঘুষবাণিজ্য ও হয়রানির অভিযোগ

আপডেট: ০৮:১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো-৪ কার্যালয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরযান নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম, হয়রানি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক অনিমেষ মণ্ডল।

একাধিক সেবাপ্রার্থী ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে নানা অজুহাতে তাদের হয়রানি করা হয়। কখনো ফাইল আটকে রাখা, কখনো অযথা বিলম্ব এবং কখনো বিভিন্ন ত্রুটির কথা বলে সেবা পেতে জটিলতা তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পরীক্ষায় পাস করানো ও ফেল দেখানোর অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিআরটিএর নিয়ম অনুযায়ী লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরও কিছু পরীক্ষার্থীর অনলাইনে ‘ফেল’ দেখানো হচ্ছে। পরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সার্ভার জটিলতা, ব্যবহারিক পরীক্ষায় ত্রুটি কিংবা পরীক্ষার খাতা নিয়ে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

অভিযোগকারীদের দাবি, পরবর্তী সময়ে পুনরায় আবেদন করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ লেনদেনের প্রস্তাব বা ইঙ্গিত দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলে পরীক্ষায় দুর্বল ফল করলেও পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাপ্রার্থী।

এমনকি শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসেও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ

শুধু ড্রাইভিং লাইসেন্স নয়, মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস সনদ প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ রয়েছে।

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রাখা হয়। কখনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে ত্রুটি দেখিয়ে বারবার কার্যালয়ে আসতে বলা হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটিই ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আগের কর্মস্থলেও অভিযোগের দাবি

অভিযোগকারীদের দাবি, অনিমেষ মণ্ডল এর আগে বিআরটিএ যশোর কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছিল। ঢাকা মেট্রো-৪ কার্যালয়ে যোগদানের পরও একই ধরনের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি তাদের।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। কারও বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তদন্তের আগে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ

পরিবহন খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিআরটিএর মতো প্রতিষ্ঠানে ঘুষ বা অনিয়মের মাধ্যমে অযোগ্য ব্যক্তিকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়া হলে এর প্রভাব সরাসরি সড়ক নিরাপত্তার ওপর পড়তে পারে। একইভাবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফিটনেস সনদ দেওয়া হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

এ কারণে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা, যানবাহনের ফিটনেস এবং রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের জবাবদিহিতাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মোটরযান পরিদর্শক অনিমেষ মণ্ডলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪ কার্যালয়ে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ করে নির্ধারিত ফি ও নিয়ম অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।