০৫:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের ডিসি হতে ৭০ কোটি টাকার চুক্তির অভিযোগ, বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নিয়োগ পেতে তদবিরের জন্য ৭০ কোটি টাকার লেনদেন ও চুক্তির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপসচিব ও কন্ট্রোলার অব স্টোর্স মো. সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তিপত্র, চেক ও অন্যান্য নথি সামনে এসেছে।

তবে এসব নথিতে উল্লেখ করা প্রতিশ্রুত পদগুলো বাস্তবে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে নথিতে থাকা কিছু দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, প্রশাসন ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ গত বছরের শেষ দিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে বদলি হন। এর আগে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অর্থের বিনিময়ে তিনি চট্টগ্রামের ডিসি পদে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

নথিপত্র অনুযায়ী, ঘটনাপ্রবাহের শুরু গত বছরের ২৪ নভেম্বর। ওই দিন ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা আহমেদ শাকিল খানের সঙ্গে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সালাহউদ্দিন।

চুক্তিতে শাকিল খানের কাছ থেকে সালাহউদ্দিনের ৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এই ঋণের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবসার সুযোগ ও কাজের সম্পর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে সালাহউদ্দিন তার সিটি ব্যাংকের হিসাব থেকে দুটি চেক দেন। প্রতিটি চেকের মূল্য ছিল ২ কোটি টাকা।

এর প্রায় এক মাস পর, ১৭ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক পদে বদলির আদেশ দেয়। ২৩ ডিসেম্বর তিনি সেখানে যোগ দেন। তবে পরিচালক পদটি তখন শূন্য ছিল না। পরে ৮ জানুয়ারি প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাকে কন্ট্রোলার অব স্টোর্স পদে পদায়ন করা হয়।

এরপর সালাহউদ্দিন ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মধ্যে কথিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন সামনে আসে। সেখানে সালাহউদ্দিনকে তার পদায়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

বার্তায় তিনি দাবি করেন, তাকে একটি নির্দিষ্ট পদে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে অন্য পদে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ‘নিঃস্ব’ হয়ে গেছেন বলেও কথোপকথনে উল্লেখ রয়েছে।

ওই কথোপকথনে পদায়নের ব্যবস্থা কে করেছিলেন, তা তিনি জানেন বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেখানে ওই ব্যক্তিকে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথিপত্র থেকে ওই ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

নথিপত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে পদায়নের পরও কাঙ্ক্ষিত পদ পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত ছিল।

গত ২৯ মার্চ সালাহউদ্দিন একটি লিখিত ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। সেখানে তাকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে ওই পদে দায়িত্ব পালনে তার কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করা হয়।

একই নথির ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালীর বাউফলের মো. হাবিবুর রহমানকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সালাহউদ্দিনের পক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার ক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়।

সবচেয়ে বড় অঙ্কের অভিযোগ পাওয়া যায় ১৬ জুলাই তারিখের একটি নথিতে। এতে সালাহউদ্দিনের কথিত স্বাক্ষর রয়েছে। নথিতে চট্টগ্রামের ডিসি পদে নিয়োগের সঙ্গে **৭০ কোটি টাকার একটি চুক্তির** কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর ১৮ মাসের মধ্যে ‘কাজের মাধ্যমে’ ১৪০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে ‘কাজের মাধ্যমে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে আইনগতভাবে এত অর্থ উপার্জন করবেন কিংবা অর্থটি শেষ পর্যন্ত কার কাছে যাওয়ার কথা ছিল—নথিতে তার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

পর্যালোচনা করা নথিতে সোনালী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের মোট ১২টি চেক পাওয়া গেছে। এসব চেকের মোট মূল্য ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, কাঙ্ক্ষিত পদে নিয়োগের চেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথিত আর্থিক ব্যবস্থায় এসব চেক নিরাপত্তা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

সোনালী ব্যাংকের বগুড়া করপোরেট শাখার পাঁচটি চেকের মোট মূল্য ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর সিটি ব্যাংকের সাতটি চেকের মূল্য ৫ কোটি টাকা।

নথিতে আরও দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সালাহউদ্দিন তার সরকারি সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত সার্ভিস প্রোফাইলের কপি দেন। তার বোন জিনিয়াত খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও দেওয়া হয়েছিল। নথি পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, কথিত লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের আশ্বস্ত করার জন্য এসব কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে তা অস্বীকার করেন। তার দাবি, তার মুঠোফোন হ্যাক করা হয়েছিল, চেক হারিয়ে গিয়েছিল এবং জাতীয় পরিচয়পত্র চুরি হয়েছিল।

পরে তিনি বলেন, সচিবালয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠী নিয়মিত কর্মকর্তাদের কাছে নানা ধরনের প্রস্তাব নিয়ে যায়। তবে কোনো পদ পাওয়ার জন্য অর্থ দেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেননি।

অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, **“বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”**

প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে তদন্ত কমিটির সদস্যের পরিচয় জানাতে তিনি রাজি হননি।

এদিকে, অভিযোগের নথিতে থাকা আর্থিক লেনদেন, চুক্তি ও চেকগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সেগুলোর সঙ্গে সরকারি পদায়নের কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না—তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষার্থীর দুর্ভোগ লাঘবে মেহেরুল্লাহনগর স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ চায় যবিপ্রবি

চট্টগ্রামের ডিসি হতে ৭০ কোটি টাকার চুক্তির অভিযোগ, বন্দর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

আপডেট: ১০:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নিয়োগ পেতে তদবিরের জন্য ৭০ কোটি টাকার লেনদেন ও চুক্তির অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের উপসচিব ও কন্ট্রোলার অব স্টোর্স মো. সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি চুক্তিপত্র, চেক ও অন্যান্য নথি সামনে এসেছে।

তবে এসব নথিতে উল্লেখ করা প্রতিশ্রুত পদগুলো বাস্তবে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে নথিতে থাকা কিছু দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, প্রশাসন ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ গত বছরের শেষ দিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে বদলি হন। এর আগে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিপুল অর্থের বিনিময়ে তিনি চট্টগ্রামের ডিসি পদে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

নথিপত্র অনুযায়ী, ঘটনাপ্রবাহের শুরু গত বছরের ২৪ নভেম্বর। ওই দিন ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা আহমেদ শাকিল খানের সঙ্গে ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সালাহউদ্দিন।

চুক্তিতে শাকিল খানের কাছ থেকে সালাহউদ্দিনের ৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এই ঋণের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরে ব্যবসার সুযোগ ও কাজের সম্পর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।

ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে সালাহউদ্দিন তার সিটি ব্যাংকের হিসাব থেকে দুটি চেক দেন। প্রতিটি চেকের মূল্য ছিল ২ কোটি টাকা।

এর প্রায় এক মাস পর, ১৭ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক পদে বদলির আদেশ দেয়। ২৩ ডিসেম্বর তিনি সেখানে যোগ দেন। তবে পরিচালক পদটি তখন শূন্য ছিল না। পরে ৮ জানুয়ারি প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে তাকে কন্ট্রোলার অব স্টোর্স পদে পদায়ন করা হয়।

এরপর সালাহউদ্দিন ও অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মধ্যে কথিত একটি হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন সামনে আসে। সেখানে সালাহউদ্দিনকে তার পদায়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

বার্তায় তিনি দাবি করেন, তাকে একটি নির্দিষ্ট পদে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে অন্য পদে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ‘নিঃস্ব’ হয়ে গেছেন বলেও কথোপকথনে উল্লেখ রয়েছে।

ওই কথোপকথনে পদায়নের ব্যবস্থা কে করেছিলেন, তা তিনি জানেন বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেখানে ওই ব্যক্তিকে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথিপত্র থেকে ওই ব্যক্তির পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

নথিপত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে পদায়নের পরও কাঙ্ক্ষিত পদ পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত ছিল।

গত ২৯ মার্চ সালাহউদ্দিন একটি লিখিত ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। সেখানে তাকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে ওই পদে দায়িত্ব পালনে তার কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করা হয়।

একই নথির ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালীর বাউফলের মো. হাবিবুর রহমানকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সালাহউদ্দিনের পক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার ক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়।

সবচেয়ে বড় অঙ্কের অভিযোগ পাওয়া যায় ১৬ জুলাই তারিখের একটি নথিতে। এতে সালাহউদ্দিনের কথিত স্বাক্ষর রয়েছে। নথিতে চট্টগ্রামের ডিসি পদে নিয়োগের সঙ্গে **৭০ কোটি টাকার একটি চুক্তির** কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ওই পদে নিয়োগ পাওয়ার পর ১৮ মাসের মধ্যে ‘কাজের মাধ্যমে’ ১৪০ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তবে ‘কাজের মাধ্যমে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে আইনগতভাবে এত অর্থ উপার্জন করবেন কিংবা অর্থটি শেষ পর্যন্ত কার কাছে যাওয়ার কথা ছিল—নথিতে তার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

পর্যালোচনা করা নথিতে সোনালী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকের মোট ১২টি চেক পাওয়া গেছে। এসব চেকের মোট মূল্য ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, কাঙ্ক্ষিত পদে নিয়োগের চেষ্টার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কথিত আর্থিক ব্যবস্থায় এসব চেক নিরাপত্তা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

সোনালী ব্যাংকের বগুড়া করপোরেট শাখার পাঁচটি চেকের মোট মূল্য ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর সিটি ব্যাংকের সাতটি চেকের মূল্য ৫ কোটি টাকা।

নথিতে আরও দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সালাহউদ্দিন তার সরকারি সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত সার্ভিস প্রোফাইলের কপি দেন। তার বোন জিনিয়াত খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপিও দেওয়া হয়েছিল। নথি পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, কথিত লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের আশ্বস্ত করার জন্য এসব কাগজপত্র দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে তা অস্বীকার করেন। তার দাবি, তার মুঠোফোন হ্যাক করা হয়েছিল, চেক হারিয়ে গিয়েছিল এবং জাতীয় পরিচয়পত্র চুরি হয়েছিল।

পরে তিনি বলেন, সচিবালয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠী নিয়মিত কর্মকর্তাদের কাছে নানা ধরনের প্রস্তাব নিয়ে যায়। তবে কোনো পদ পাওয়ার জন্য অর্থ দেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেননি।

অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, **“বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”**

প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বার্থে তদন্ত কমিটির সদস্যের পরিচয় জানাতে তিনি রাজি হননি।

এদিকে, অভিযোগের নথিতে থাকা আর্থিক লেনদেন, চুক্তি ও চেকগুলোর প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সেগুলোর সঙ্গে সরকারি পদায়নের কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না—তদন্তের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।